Home » বিনোদন » এবার স্বমহিমায় রূপালি পর্দায় আবির্ভূত হচ্ছেন প্রফেসর শঙ্কু

এবার স্বমহিমায় রূপালি পর্দায় আবির্ভূত হচ্ছেন প্রফেসর শঙ্কু

কলকাতা: এবার স্বমহিমায় রূপালি পর্দায় আবির্ভূত হচ্ছেন দাড়িওয়ালা সেই বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী‌ প্রফেসর শঙ্কু। বলাই বাহল্য শঙ্কু-‌স্রষ্টার পুত্রের হাত ধরেই শঙ্কুর এই মহা-‌আগমন। সম্প্রতি, এক সাংবাদিক বৈঠকে বেশ আড়ম্বরেই ঘোষণা হল এসভিএফ এন্টারটেইনমেন্ট-‌এর পরবর্তী ছবি ‘প্রফেসর শঙ্কু ও এলডোরাডো‌’র।

সত্যজিৎ রায়ের ‘নকুড়বাবু ও এলডোরাডো’ অবলম্বনে তৈরি হবে ‘প্রফেসর শঙ্কু ও এলডোরাডো‌’। শঙ্কুর ভূমিকায় প্রথম থেকেই সন্দীপ রায়ের পছন্দ ছিলেন ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায়। পরিচালক জানালেন, প্রফেসর শঙ্কুর চরিত্রটি কেবলমাত্র এক বাঙালি বিজ্ঞানীর নয়, বরং অনেক বেশি গ্লোবাল। অনেকগুলো ভাষা, বিশেষত সাবলীল ভাবে ইংরেজি বলতে পারার সঙ্গে সঙ্গে, অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত চেহারার অধিকারী হওয়া জরুরি। ধৃতিমান সেই কারণেই এই চরিত্রের জন্য যথাযথ। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক সন্দীপ রায়, ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায়, শুভাশিস মুখোপাধ্যায় ও শ্রীকান্ত মোহতা।

ধৃতিমান অল্প তীর্যক ভাবেই জানান, সত্যজিতের স্কেচ দেখে শঙ্কুর চেহারা নিয়ে একটা ধারণা আগে থেকেই তৈরি করে রেখেছেন বাঙালি পাঠকরা, তবুও এটা মনে রাখতেই হবে, সাহিত্য ও সিনেমার ভাষা একেবারেই ভিন্ন। সাহিত্য থেকে ছবি বানালেই যে হুবুহু অনুকরণ করতে হবে, এমন ধারণা ভাঙা দরকার। যদিও, পাঠকদের উদ্দেশে সন্দীপ রায়ের আশ্বাস, সত্যজিতের আঁকা প্রফেসর শঙ্কুর ধারেকাছেই হবে পর্দার শঙ্কুর চেহারা।

কিন্তু কল্পবিজ্ঞান নিয়ে ছবি বানাতে গেলে যে বাজেট, যে পরিকাঠামো প্রয়োজন, সেটা বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে যথেষ্ট পরিমাণে পাওয়া যাবে তো? আজকাল দর্শকদের হাতের মুঠোয় বিশ্ব চলচ্চিত্রের দুনিয়া। স্পেশাল এফেক্টস, গ্রাফিক্সের ব্যবহারে যদি গুণগত মান বজায় না থাকে, তাহলে ‘আহারে বাংলা ছবি’ বলে কি দর্শকরা ছেড়ে কথা বলবে? একেবারেই না!‌ হাসতে হাসতে সন্দীপ রায়ের জবাব। সেই কারণেই প্রফেসর শঙ্কুকে নিয়ে প্রথম ছবি করতে গিয়ে এই গল্পটাই বাছতে হয়েছে। নকুড়বাবুর চরিত্রে অভিনয় করতে চলেছেন শুভাশিস মুখোপাধ্যায়। স্বভাবতই তিনি উচ্ছ্বসিত এমন একটি চরিত্র পেয়ে। আগামী ফেব্রুয়ারির শেষ বা মার্চের শুরুতেই শুটিং শুরু হবে ‘প্রফেসর শঙ্কু ও এলডোরাডো‌’র। প্রথম ভাগের শুটিং কলকাতা ও গিরিডিতে হবে। তারপর শঙ্কু ও তাঁর দলবল পাড়ি দেবে ব্রাজিল। একঝাঁক বিদেশী অভিনেতাদেরও দেখা মিলবে এই ছবিতে। এই ছবি দিয়েই আন্তর্জাতিক‌ বাজারে পা রাখতে পারে বাংলা সিনেমা, এমনটাই আশা ছবির নির্মাতাদের।

আপাতত কল্পবিজ্ঞানের ‘ফ্যান্টাসি’-তে বাস করা বিজ্ঞান-‌পিপাসু পাঠকদের দিন গোনা শুরু হোক। সব ঠিক চললে ঋদ্ধ এই বিজ্ঞানীর দেখা মিলবে আগামী বছরের শেষেই যদিও প্রথম পছন্দ ছিল ‘একশৃঙ্গ অভিযান‌’। পরে সন্দীপ রায়ের মনে হয়েছিল বাংলায় ‘একশৃঙ্গ অভিযান‌’ বানানোটা খুব কঠিন। বিশেষ করে ক্লাইম্যাক্সের দৃশ্য। সেটা বিদেশী টেকনিশিয়ান বা প্রযুক্তি ছাড়া অসম্ভব। প্রথমেই এতটা ঝুঁকি নিতে চাননি পরিচালক। তাই একমাত্র বিকল্প ছিল ‘নকুড়বাবু ও এলডোরাডো‌’। নকুড়বাবু তাঁর অত্যন্ত প্রিয় চরিত্র, এবং এই গল্পে যে গ্রাফিক্স বা স্পেশাল এফেক্টস ব্যবহার করা হবে, সেটা কলকাতা, চেন্নাই, মুম্বই মিলিয়ে করে ফেলা সম্ভব। আর ব্রাজিলে ইতিমধ্যেই ‘আমাজন অভিযান‌’-এর শুটিং করেছে এসভিএফ, ফলে এই ছবির শুটিং-‌এর ক্ষেত্রেও একটা বাড়তি সুবিধে পাওয়া যাবে। প্রফেসর শঙ্কু বানাতে গিয়ে একটা বাড়তি চাপও অনুভব করছেন, জানালেন সন্দীপ রায়। শঙ্কুর মান বজায় রাখা চাট্টিখানি কথা তো নয়!‌

চাট্টিখানি‌ কথা যে নয়, সেটা স্বীকার করছেন ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায়ও। শঙ্কু হয়ে ওঠার প্রক্রিয়াটা যে বেশ জটিল হবে, এখন থেকেই টের পাচ্ছেন তিনি। লেখাতে এবং আঁকাতে,ইতিমধ্যেই প্রফেসর শঙ্কু নিয়ে একটা নির্দিষ্ট ছবি তৈরি হয়ে আছে পাঠকের মনে। তার কাছাকাছি পৌঁছতে হবে, পরিচালকের ভাবনা অনুযায়ী, এবং অবশ্যই ‘মেথড‌’ ছেড়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে। এটাই বেশ চ্যালেঞ্জিং। বলছেন শঙ্কু ওরফে ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায়।

About admin

One comment

  1. আজ বিজেপি রাজ্য কমিটির সহ সভাপতি বিশ্বপ্রীয় রায়চৌধুরী (বালুদা) সহ জেলা পতিনিথিরা বিকাল ৫টা নাগাদ পূর্ব মেদিনীপুর জেলা হাসপাতালে নন্দীগ্রামে তৃনমূল কংগ্রেস এর সন্ত্রাসের শিকার বিজেপির মন্ডল সভাপতি সহ বাকি আহতদের সাথে দেখা করতে যাবেন।
    বিশেষ সূচনা – ৯৮০০৯৯৫৮০২

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

সংসদীয় কমিটির সামনে হাজিরা দিলেন পদ্মাবতীর পরিচালক

নয়াদিল্লি: বৃহস্পতিবার সংসদের তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত স্টেন্ডিং কমিটির সামনে হাজিরা দিলেন পদ্মাবতী সিনেমার পরিচালক সঞ্জয়লীলা বনশালী। ...