Home » পশ্চিমবঙ্গ » জিডি বিড়লা কাণ্ড: জেরার মুখে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ধৃতরা

জিডি বিড়লা কাণ্ড: জেরার মুখে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ধৃতরা

কলকাতা: কারা তার উপরে যৌন নির্যাতন চালিয়েছিল, পুলিশকে ছবি দেখিয়ে চিনিয়ে দিয়েছিল চার বছরের শিশুটি । তার ভিত্তিতেই জি ডি বিড়লা সেন্টার ফর এডুকেশনের দুই শিক্ষক অভিষেক রায় ও মহম্মদ মফিজউদ্দিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ । কিন্তু রবিবার জেরার মুখে আগাগোড়া দু’জনেই তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে পুলিশ সূত্রের খবর । সোমবার আবার তাদের আদালতে হাজির করা হবে ।
যদিও অন্য একটি সূত্রের দাবি, অভিযুক্তদের বক্তব্যে বিস্তর অসঙ্গতি মিলেছে । যখন ওই ঘটনা ঘটে, তখন তাঁরা কোথায় কার সঙ্গে ছিলেন, তার স্পষ্ট উত্তরও পাওয়া যায়নি । অভিযুক্তদের বক্তব্য যাচাই করতে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশের । কথা বলা হবে প্রিন্সিপ্যাল শর্মিলা নাথের সঙ্গেও। ওই স্কুলে ছোটদের জন্য দু’টি শিফ্‌ট আছে । নির্যাতিত শিশুটি দ্বিতীয় শিফ্‌ট অর্থাৎ দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত স্কুলে থাকে । পুলিশ জেনেছে, দুপুর ২টো থেকে বিকেল ৪টের মধ্যেই শৌচাগারে যৌন নিপীড়ন চলে । কিন্তু অভিষেক ও মফিজউদ্দিন প্রশ্ন তুলেছেন, কেন তাঁরা এমন করতে যাবেন! পুলিশ জানাচ্ছে, ওই দু’ঘণ্টা শিশুটির গতিবিধি ও অবস্থান জানতে ক্লাস টিচারের সঙ্গে কথা বলা হবে ।
নিজেদের ‘অপকর্ম’-র জন্য মানসিকভাবে কোনওরকম আত্মগ্লানি তো নেইই, বরং শনিবার আলিপুর আদালতের পুলিশ লকআপে টানা প্রায় পাঁচ ঘণ্টা নিজেদের মধ্যে হাসি-ঠাট্টায় খোশগল্পে মেতে উঠেছিল ছাত্রী নির্যাতনের অভিযোগে ধৃত বিতর্কিত জি ডি মেমোরিয়াল স্কুলের দুই শিক্ষক । শুধু তাই নয়, এরই পাশাপাশি এদিন তারা ওই পাঁচ ঘণ্টা চুটিয়ে আড্ডা দেয় পুলিশ লকআপে থাকা অন্যান্য আসামিদের সঙ্গেও ।
শনিবার বিকেল সাড়ে তিনটের পর বিশেষ আদালতের বিচারক দেবাশিস বর্মনের এজলাসে মামলার শুনানি শুরু হলেও ধৃত দুই শিক্ষককে কাঠগড়ায় হাজির করা হয়নি। তাদের রাখা হয়েছিল পুলিশ লকআপেই । এখানে থাকাকালীন তারা মজে উঠল জমজমাট আড্ডায় ।
এদিকে,বিচারক দেবাশিস বর্মনের এজলাসে শুরু হয় এই মামলার জমজমাট সওয়াল । দুই শিক্ষকের জামিনের বিরোধিতা করে আইনজীবী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল জানান, ‘চার বছরের একটি ছোট্ট ফুটফুটে শিশুর উপর যে পাশবিক অত্যাচার চালিয়েছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তাই অভিযুক্তদের ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হোক’। শুনানির শুরুতেই আদালতে জমা দেওয়া পুলিশের এফ আই আর কপি নিয়ে এজলাসে বিতর্কের তুমুল ঝড় ওঠে । পকসো আইন অনুযায়ী, এই মামলা হওয়া উচিত জজ কোর্টে। কিন্তু ছুটির দিন বলে এই কোর্ট বন্ধ থাকায় মামলাটি ওঠে বিশেষ আদালতে । সেই কারণে পুলিশ এফ আই আর-এর মূল কপি এই আদালতে জমা দেয়নি । তা না দেওয়ায় তীব্র প্রতিবাদ করে ওঠেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা । দু-পক্ষের মধ্যে চলে তুমুল বাদানুবাদ । এরফলে শুনানির কাজ থমকে যায় । শেষ পর্যন্ত বিচারকের নির্দেশে এফ আই আর-এর জেরক্স কপি সার্টিফায়েড করেন যাদবপুর থানার ওসি । এরপর শুরু হয় শুনানি ।
সওয়ালে আসামিপক্ষের আইনজীবী তীর্থঙ্কর রায় জানান, ‘ভারতীয় দণ্ডবিধির ৬ ধারায় আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে । এই ধারায় বলা হয়েছে, এই ধরনের কোনও ঘটনা ঘটলে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু আমার মক্কেল স্কুলের শিক্ষক, কর্মী নন । এছাড়াও ঘটনার পুনর্গঠন এবং আরও জেরা করার জন্য তাদের নিজেদের হেফাজতে নিতে চেয়েছে পুলিশ । এটা কী করে সম্ভব ? জেরা তো জেলে গিয়েও করা যায়’। উত্তরে সরকার পক্ষের আইনজীবী সৌরীন ঘোষাল জানান, ‘এই ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না বা এই ঘটনার কথা আর কেউ জানতো কি না তার জন্য ধৃতদের আরও জেরার প্রয়োজন । এছাড়া তাদের জেরা করে জানতে হবে, তারা আর কোনও ছাত্রীর সঙ্গে এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছিল কি না। সেই কারণে তাদের ১৪ দিনের পুলিশের হেফাজতে রাখা হোক’।
দু’পক্ষের সওয়ালের পর রায়দান বেশ কিছুক্ষণ বন্ধ রাখেন বিচারক । এই সওয়ালে উপস্থিত ছিলেন পক্সো মামলার আইনজীবী মাধবী ঘোষও । এরপর সন্ধ্যায় ধৃত দুই শিক্ষককে দু’দিনের পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক। অর্থাৎ, সোমবার তাদের ফের হাজির করা হবে জজ কোর্টে ।

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মাদ্রাসায় বসে মমতার সমালোচনা করবেন না শিক্ষকদের হুমকি অনুব্রতর

সিউড়ি: তৃণমূল করতে হবে না তাও আচ্ছা। কিন্তু মাদ্রাসায় বসে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সমালোচনা করবেন না। ...