Home » পশ্চিমবঙ্গ » গুজরাট-হিমাচল প্রদেশে ভোট, কলকাতাতেও টানটান উত্তেজনা

গুজরাট-হিমাচল প্রদেশে ভোট, কলকাতাতেও টানটান উত্তেজনা

কলকাতা: সোমবার বেলা ১১টা থেকেই একটু একটু করে ভিড় জমতে শুরু করে মধ্য কলকাতার ৬, মুরলিধর সেন লেনে৷ গুজরাট-হিমাচল প্রদেশে ভোটগননা শেষ হতে তখনও বেশ দেরী! তা সত্বেও শুরু হয়ে যায় আবির খেলা৷ বেলা যত গড়াতে থাকে কলকাতায় বিজেপি-র ওই সদর দফতরে বাড়তে থাকে দলীয় সমর্থকদের ভিড়! শুরু হয় মিষ্টিমুখ৷

এ দিন সকাল থেকেই ট্রেনে-বাসে, পাড়ায় পাড়ায় আলোচনার বিষয় গুজরাট-হিমাচল প্রদেশে ভোট৷ টিভি চ্যানেলগুলিও সকাল থেকে ব্যস্ত এর ব্যবচ্ছেদ নিয়ে! অনেকে ফোনে প্রচারমাধ্যমের দফতরে জানতে চাইছেন সর্বশেষ ফলাফল৷ বেলা তিনটে নাগাদ, নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতা যখন প্রায় নিশ্চিত, বিজেপি-র সদর দফতরে নৈহাটি থেকে আসা অসীম সামন্ত রীতিমত উল্লসিত৷ বললেন, “জিএসটি-নোট বাতিলের জন্য় লাগাতার বিজেপি বিরোধিতা চলেছে! সেই সব চাপ কাটিয়ে ফের একবার মোদী ঝড়!”
শেষমেষ হাতের ‘হাত’ ছাড়া হিমাচল প্রদেশ ৷ বীরভদ্র সিংয়ের কংগ্রেসিরাজকে সরিয়ে পাহাড়ে গেরুয়া গর্জনে ফুটল পদ্মফুল ৷ গুজরাটেও স্বস্তিতে বিজেপি৷ চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগেই দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বললেন, “এই ফল সবংয়ের ভোটে প্রভাব ফেলবে ৷” আগামী ২১ ডিসেম্বর পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ের উপনির্বাচন৷ সবংয়ে বিজেপি-র যাঁরা মাটি কামড়ে আছেন, তাঁদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন শমীক ভট্টাচার্য৷ যারপরনাই খুশি তিনিও৷

গত বৃহস্পতিবার বুথফেরত সমীক্ষাতেই দুই রাজ্যেই গেরুয়া ঝড়ের ইঙ্গিত স্পষ্ট ছিল। বিহারের বিগত বিধানসভা ভোটের বুথফেরত সমীক্ষাকে ভুল প্রমাণ করে ধরাশায়ী হতে হয় বিজেপিকে। সেই সংশয় কাটাতে গুজরাতের ভরসা উত্তরপ্রদেশ। সেখানে আড়াইশো আসন পেয়ে বিজেপির জয় নিশ্চিত বলেছিল সমীক্ষা। ভোটগণনা শেষে ৩২৫ আসন পেয়ে বিজয়রথ ছুটিয়েছিল নরেন্দ্র মোদী ব্রিগেড। সোমবার গুজরাতের ফল যাই হোক না কেন, তা যে ২০১৯ লোকসভা ভোটের ড্রেস রিহার্সাল, তা মোদি বিলক্ষণ জানেন। আর তাই স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তথা তাঁর গোটা ব্রিগেড কিন্তু অপেক্ষায় ছিল গুজরাতের ফলের। সব শেষে হাসি ফুটল সেই ব্রিগেডের মুখে৷ যদিও এই পদ্মফুলে কাঁটা হিসেবে ফুটল বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী প্রেমকুমার ধুমলের পরাজয়৷
প্রায় দু’দশক বিজেপি-তে কাটিয়ে ২০০৯-এ তৃনমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন কর্নেল সব্যসাচী বাগচী ৷ গুজরাত-হিমাচলের প্রভাব কি এ রাজ্যে কোনওভাবে পড়বে? ‘হিন্দুস্থান সমাচারকে’ সব্যসাচীবাবুর জবাব, “না৷ বিশ্বাসযোগ্য নেতা তৈরী করতে হবে৷ মজবুত সংগঠন দরকার৷ এর কোনওটা তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধী কোনও দলের এখন নেই৷ বিশ্বাসযোগ্যতা এক দিনে হয় না৷ আর, ভাড়া করা নেতা দিয়ে ভোটে জেতা যায় না৷ এই কারণে দীর্ঘ ২২ বছর বাদেও ‘এন্টি ইন্কাম্বেন্সি ফ্যাক্টর’ থাকা সত্বেও গুজরাতে কংগ্রেস সুবিধা করতে পারল না৷”

নোট বাতিল বা জিএসটি কোনও ফ্যাক্টরই যে এখনও গেরুয়া শিবিরকে টলাতে পারেনি, তা সোমবারের পর আরওই স্পষ্ট হল৷ গুজরাতে হাড্ডাহাড্ডির লড়াই হলেও হিমাচল প্রদেশ কংগ্রেসের কাছ থেকে ফের ছিনিয়ে নিতে সফল মোদি বাহিনী৷ এর ফলে দেশের মাত্র চার রাজ্যই এখন রইল কংগ্রেসের হাতে৷ অন্যদিকে ২৯টি রাজ্যের মধ্যে ১৯টা রাজ্যই এখন গেরুয়া শিবিরের দখলে৷ শেষবার এই নজির গড়েছিল কংগ্রেস ৷ সেটাও ২৪ বছর আগে৷ তখন তাদের দখলে ছিল দেশের ১৮টি রাজ্য৷ স্বাধীন ভারতে এই প্রথমবার কোনও একটি রাজনৈতিক দলের হাতে চলে এল দেশের ১৯টা রাজ্য৷ যা অবশ্যই নতুন রেকর্ড৷

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

উলুবেড়িয়া উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীর নাম ঘোষণা নিয়ে ধন্দ

কলকাতা: উলুবেড়িয়া লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত ঘোষণা নিয়ে ধন্দ দেখা দিয়েছে৷ দলের ...