Home » পশ্চিমবঙ্গ » শান্তিনিকেতন পৌষ মেলার স্টল বুকিংয়ে বাধ্যতামূলক আধার

শান্তিনিকেতন পৌষ মেলার স্টল বুকিংয়ে বাধ্যতামূলক আধার

বীরভূম: দূর্নীতি রুখতে শান্তিনিকেতন পৌষ মেলার স্টল বুকিংয়ে আধার বাধ্যতামূলক কর‍ল বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন ধরে বীরভূমের শান্তিনিকেতন পৌষ মেলায় স্টল বুকিং নিয়ে নানা ভাবে দুর্নীতি হচ্ছিল । এলাকার কিছু দুষ্কৃতিদের দাপটে নাকানি চোবানি খেতে হত কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু এবার কাউকেই তোয়াক্কা না করে এবার পৌষ মেলায় স্টলের দূর্নীতি রুখতে কড়া পদক্ষেপ নিল বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। আধার লিঙ্ক ছাড়া কোনও স্টলের বরাত নয় এবার স্পষ্ট জানিয়ে দিল কর্তৃপক্ষ।। ফলে দূর্নিতীতে অনেকটাই রাস টানা যাবে বলে আশাবাদী বিশ্বভারতী এবং ব্যবসায়িক মহল।
অভিযোগ, প্রতি বছর বিশ্বভারতীর তরফে পৌষ মেলায় স্টল বিতরণের সময় উঠল নানান অভিযোগ। সেই সব অভিযোগ নিয়ন্ত্রন করতে বিশ্বভারতীর তরফে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও তাতে সম্পূর্ণ রুপে দূর্নীতি রোখা সম্ভব হতো না। এক দল দালাল চক্র পৌষ মেলার স্টল বিতরণের সময় নিজেদের নামে একাধিক স্টল বুকিং করে রাখত। এরপর বাইরে থেকে আগত ব্যবসায়িরা যারা সময় বিশ্বভারতীর কাছে স্টল নিতে পারতেন না তাদেরকে মোটা টাকার বিনিময়ে স্টল বিক্রি করে দিত সেই সব দালালরা। তাদেরকে একাধিকবার সনাক্ত করে বিশ্বভারতী পুলিশের কাছে নানান অভিযোগ দায়ের করেছে। কিন্তু তার পরেও বন্ধ করা যায়নি এই দূর্নীতির রাশ। যদিও ব্যবসায়ি মহলের অভিযোগ ছিল বিশ্বভারতীর একাংশ কর্মী যারা এই সব স্টল বিতরণের কাজে যুক্ত থাকতেন তারা এই দালাল চক্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে থাকতেন। কিন্তু এবার দূর্নীতি বন্ধে রাষ টানতে স্টল বিতরণে আধার লিঙ্ক বাধ্যতা মূলক করল বিশ্বভারতী। বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গেছে, এবার স্টলের প্লট বুকিংয়ের সময় আধার কার্ডের নকল দিতে হবে। স্টল চালু হওয়ার পর বিশ্বভারতীর তরফে একটি বিশেষ অনুসন্ধান চালানো হবে। তাতে দেখা হবে সেই স্টলের মালিক যিনি স্টল নেওয়ার সময় আধার জমা দিয়ে ছিলেন সেই মালিকই দোকান চালাচ্ছেন কিনা। যদি দুয়ের মধ্যে অমিল হয় তাহলে সেই স্টল মালিককে অর্থাৎ সেই আধার কার্ডটির মালিককে আগামী দিনের জন্য স্টলের নেওয়ার জন্য ব্ল্যাক লিষ্ট করবে কর্তৃপক্ষ।

ছাড়া, এক ব্যক্তি যাতে একাধিক প্লট বুকিং করতে না পারেন সেই বিষয়েও নজরদারি চালাতে বুকিং কাউন্টারে বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। প্রসঙ্গত, পৌষমেলায় এক ব্যাক্তি একাধিক প্লট বুকিং করে রেখে বহিরাগতদের কাছে বেশি টাকায় তা বিক্রি করার অভিযোগ ছিল দীর্ঘদিনের। এবার প্লট বুকিংয়ে দালাল চক্র রুখতে আধার কার্ড লিঙ্ক আবশ্যক করা হল। এতে খুশি মেলায় আগত ব্যবসায়ীরা। তবে ব্যবসায়িক মহলের দাবী স্টল নেওয়ার সময় আধার বাধ্যতা মূলক করার পাশাপাশি ব্যবসায়িদের নামে একটি করে সাময়িক লাইসেন্স ঈস্যু করুক বিশ্বভারতী। এর ফলে এই দূর্নীতি একেবারেই মিটে যাবে। অন্যদিকে বিশ্বভারতী সূত্রে আরো জানা যাচ্ছে, গত বছর শান্তিনিকেতন পৌষ মেলায় ৯৫০টি স্টল ছিল। এবার তা বেড়ে হতে চলেছে প্রায় ১৪৫০টি। সোমবার বিকাল অবধি প্রায় ১১০০টি স্টল বিলি করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিশ্বভারতী পৌষ মেলা কমিটির তরফে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় পেয়ায় ২৫০টিরও বেশি স্টল বারানো সম্ভব হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবী এই সব স্টল গুলি দালাল চক্রের হাতে চলে যেতো। কিন্তু এবার সেগুলি আর কেউ নিতে পারছে না। তাই সেগুলি ব্যবসায়িদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।
পৌষ মেলা কমিটির কনভেনার গৌতম সাহা জানিয়েছেন, “দূর্নীতি রুখতে এবার স্টল নিতে গেলে আধার কার্ডের নকল জমা নিচ্ছি আমরা। যদি কেউ একাধিক স্টল একই নামে বুকিং করে তাহলে আধার দিয়ে আমরা নজর রাখতে পারব। এবছর স্টলের সংখ্যা প্রায় অনেক গুলি বাড়ছে। যার কারন হিসাবে দেখছি আমরা দূর্নীতি বন্ধ এবং আধার লিঙ্ক করার পদ্ধতি। আমরা আগামী দিনে এই দূর্নীতিকে সমূলে তুলে ফেলতে আরো কিছু ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

উলুবেড়িয়া উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীর নাম ঘোষণা নিয়ে ধন্দ

কলকাতা: উলুবেড়িয়া লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত ঘোষণা নিয়ে ধন্দ দেখা দিয়েছে৷ দলের ...