Home » পশ্চিমবঙ্গ » দু’দেশের মধ্যে অবিশ্বাসের যেটুকু দেওয়াল ছিল, তা ভেঙে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি: বাংলাদেশ

দু’দেশের মধ্যে অবিশ্বাসের যেটুকু দেওয়াল ছিল, তা ভেঙে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি: বাংলাদেশ

কলকাতা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে চূড়ান্ত রূপ দিয়েছেন বলে মন্তব্য করে বাংলাদেশ। বুধবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এই মন্তব্য করেন। ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলি এবং অন্য়ান্য় পদস্থ আধিকারিকদের সামনে তিনি বিজেপি সরকারের প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, ”১৯৭১ সাল থেকেই দু’দেশের সম্পর্ক বিকশিত হয়েছে। ১৯৭৪ সালের ইন্দিরা-মুজিবের সীমান্তচুক্তি আমরা অনেক আগেই রূপায়িত করেছি। যে কোনও কারণেই হোক ভারত কয়েক বছর আগেও তা করতে পারেনি। মনমোহন সিংয়ের ইউপিএ সরকারের সদিচ্ছা থাকা সত্বেও এটা করতে পারেনি।”
”এই সীমান্তচুক্তির পুনর্বিন্যাস আমাদের কাছে একটা ঐতিহাসিক ঘটনা” বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। ছিটমহল হস্তান্তরের ব্যাপারেও খোলা গলায় তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রশংসা করেন।বলেন, ”ভারতের ১১১টি এবং আমাদের ৫১টি— এ সব ছিটমহল হস্তান্তর খুব দুরূহ কাজ। এগুলির জনসংখ্যা ৫১ হাজার। মোদী সরকার দেখিয়ে দিয়েছে, সদিচ্ছা আর আন্তরিকতা থাকলে সব হয়। সব মিলিয়ে ভারতের বর্তমান সরকারের সঙ্গে আমাদের এখনকার সম্পর্ক একটা অন্য উচ্চতা পেয়েছে। দু’দেশের মধ্যে অবিশ্বাসের যেটুকু দেওয়াল ছিল, তা ভেঙে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। আমরা সত্যিকারের বিশ্বাস করতে শুরু করেছি, ভারতকে আমরা পূর্ণ বিশ্বাস করতে পারি। আন্তর্জাতিক একটি বিশেষ বিষয়ে ভারত বাধা দিতে পারত। তাহলে আমরা অসুবিধায় পড়তাম। কিন্তু ভারত তাতে হস্তক্ষেপ করেনি। এই অবস্থায় আমাদের বিরোধী দলগুলি আমাদের ভারতের এজেন্ট বলে প্রচার করছে।”

বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন প্রসঙ্গেও এ দিনের সমাবেশে নিজে থেকে মন্তব্য করেন মন্ত্রী ওবায়দুল। তিনি বলেন, “আমরা সংখ্যালঘুদের বলেছি, কোথাও আক্রান্ত হলে তাঁরা যেন রুখে দাঁড়ান। “ প্রবীণ সাংবাদিক এবং ’দৈনিক স্টেটসম্যান’-এর প্রাক্তন সম্পাদক মানস ঘোষ সমাবেশে অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনে যারা ইন্ধন যোগাচ্ছে, তাদের মধ্যে আওয়ামি লিগের কিছু স্থানীয় নেতাও আছে। এদিকে সরকার বিশেষ নজর না দিলে ফল খুব খারাপ হবে।“ মন্ত্রী বলেন, “সংখ্যালঘুদের ভোটের দাম কোনও অংশে কম নয়। ওঁরা যেন শিরদাঁড়া শক্ত রাখেন। মনে রাখতে হবে, সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। কেউ যেন হীনমন্যতায় না ভোগেন। হিন্দুদের ওপর আক্রমণ করে কেউ পার পাবে না। এ ব্যাপারে শেখ হাসিনা সরকার কোনও রকম আপোষ করবে না।”
সীমান্ত অতিক্রম করে ওপার বাংলা থেকে সন্ত্রাসবাদীদের একাংশ এ পারে চলে আসছে। এটা কি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিথিলতার জন্য হচ্ছে? জবাবে মন্ত্রী বলেন, “না। সীমান্তে প্রচুর ফাঁকফোঁকর আছে। সেগুলি দিয়েই আসছে ওরা।” এই সঙ্গে বলেন, ঢাকার গুলশনকান্ডে যে যৌথ তদন্ত কমিটি হয়েছে, তা ঠিকঠাক কাজ করেছে। সন্ত্রাসবাদ দমনে ভারত-বাংলাদেশ হাতে হাত মিলিয়ে, কাঁধে কাঁধ রেখে কাজ করেছে। ভবিষ্যতেও করবে।”

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ওদের যে জঙ্গি গোষ্ঠী আছে, তাদের আইএসআই ইন্ধন যোগাচ্ছে বলে আমাদের কাছে খবর আছে। আমরা এ নিয়ে খোঁজখবর করছি। নজর রাখছি।
এ দিন উপস্থিত সুধীজনদের পবিত্র সরকার, অমল মিত্র, ব্রহ্মচারী মুরালভাই, সৈকত মিত্র, প্রবীন সাংবাদিক সুখরঞ্জন দাশগুপ্ত, রাজ্যের মন্ত্রী শোভনদেব চট্টপাধ্যায় প্রমুখ। বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের ওপর ৬৫টি বাঁধানো ছবি প্রদর্শিত হয় পাঁচ দিনের এই অনুষ্ঠানে।

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মাজুলিতে ৭৫ কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষে পৰ্যটন প্ৰকল্পের শিলান্যাস সর্বানন্দ সনোয়ালের

মাজুলি: পৰ্যটন শিল্পের পরিকাঠামো উন্নয়নে মাজুলিতে ‘ঐতিহ্যমণ্ডিত স্বদেশ দৰ্শন’ প্রকল্পের শিলান্যাস করেছেন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল। ...