Home » উত্তর-পূর্ব ভারত » হাইলাকান্দিতে এক দশক পুরনো খুন-মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন

হাইলাকান্দিতে এক দশক পুরনো খুন-মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন

হাইলাকান্দি: হাইলাকান্দিতে এক দশক পুরনো খুন-মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন | ২০০৭ সালে আলগাপুরে এক লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের দায়ে মঙ্গলবার অভিযুক্ত তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাবাসের রায় দিয়েছেন হাইলাকান্দির জেলা ও দায়রা বিচারপতি দেবাশিস ভট্টাচার্য। সাজাপ্রাপ্তরা যথাক্রমে জামালউদ্দিন চৌধুরী, নিজামউদ্দিন চৌধুরী এবং রফিকউদ্দিন চৌধুরী। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাদের দু হাজার টাকার জরিমানা, অনাদায়ে আরও দু মাস করে সশ্রম কারাবাসে থাকতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করেছেন বিচারপতি ভট্টাচার্য।

হাইলাকান্দি জেলা ও দায়রা জজ আদালত সূত্রের খবরে প্রকাশ, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারার বলে আজ মঙ্গলবার এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রায় দিয়েছেন বিচারপতি দেবাশিস ভট্টাচার্য। জানা গেছে, একই মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন অন্য তিন আসামি। তাদের মধ্যে মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন আজিজুর রহমান নামের এক অভিযুক্ত মারা যান। বাকি দুজন মতিবুর রহমান এবং নুর আলি উপযুক্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে বেকসুর খালাস পেয়ে যান।
সূত্রটি জানিয়েছে, সেদিন, ২০০৭ সালে আলগাপুরের আসামি জামালউদ্দিনের একটি ছাগল তার প্রতিবেশী জনৈক মুজাম্মিল মজুমদারের সবজি বাগানে ঢুকে চাষের মরসুমি ফসল খেয়ে নষ্ট করে দিচ্ছিল। ইত্যবসরে মুজাম্মিলের ছেলে ফয়জুল হক মজুমদার সেই ছাগলটিকে তাড়াতে যায়। ফয়জুল ছাগল তাড়াতে থাকল অভিযুক্ত জামালউদ্দিন এবং তার সঙ্গীরা ফয়জুল হকের উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে হামলা করে। এতে ফয়জুল গুরুতর জখম হয়। সে সময় ফয়জুলের স্ত্রী সামসুন্নেহার ও তার বোন ফজিরা বিবি তাকে উদ্ধারে এগিয়ে এলে তাদের মারধর করে অভিযুক্তরা।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এলাকার মানুষজন জমায়েত হতে থাকলে অভিযু্ক্তরা পালিয়ে ফেরার হয়ে যায়। ইতিমধ্যে রক্তাক্ত ফয়জুল হককে উদ্ধার করে আলগাপুর পুলিশ। তাঁরা তাকে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভরতি করে চিকিৎসার জন্য। কিন্তু সেখানে তিনি মৃত্যুমুখে পতিত হন।
এ ঘটনার পর নিহত ফয়জুলর বাবা মুজাম্মিল আলি তাঁর ছেলেকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে আজকের সাজাপ্রাপ্ত এবং আজিজুর রহমান (প্রয়াত), মতিবুর রহমান এবং নুর আলির বিরুদ্ধে আলগাপুর থানায় এজাহার দায়ের করেন। পুলিশ ১৪/২০০৭ নম্বরে মামলা নথিভুক্ত করে তদন্ত আরম্ভ করে। আলগাপুরের ওসি লোকমান চৌধুরী নিজে মামলাটির তদন্তকারী অফিসার ছিলেন।

ইতিমধ্যে মামলা গড়ায় আদালতে। ৮১/২০০৯ নম্বরে মামলা নথিভুক্ত হয় আদালতে। শুরু হয় বাদি ও বিবাদি পক্ষের আইনি লড়াই। মামলায় বাদি এবং বিবাদি পক্ষের কৌসুঁলি ছিলেন যথাক্রমে পিপি উজ্জ্বলকুমার দাস, নুরুল হুদা এবং মুফজ্জুল হুসেন বড়ভুইয়াঁ। টানা এই কয় বছর মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলে আদালতে। পুলিশ, ডাক্তার-সহ মোট ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করতে করতে প্রায় এগারো বছরের মাথায় আজ মামলার চূড়ান্ত রায় দেয় জেলা ও দায়রা আদালত।

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ত্ৰিপুরায় অমিত শাহর জনসমাবেশ সফল করার প্ৰস্তুতি বিজেপি-র

আগরতলা: আগামী ৭ জানুয়ারি ত্ৰিপুরার আমবাসা ও উদয়পুরে বিজেপি-র সৰ্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহর নিৰ্বাচনী জনসমাবেশকে ...