Home » উত্তর-পূর্ব ভারত » আনুষ্ঠানিকভাবে সদলবলে বিজেপিতে যোগ দিলেন টানা ৫বারের কংগ্রেস বিধায়ক রতনলাল নাথ

আনুষ্ঠানিকভাবে সদলবলে বিজেপিতে যোগ দিলেন টানা ৫বারের কংগ্রেস বিধায়ক রতনলাল নাথ

আগরতলা: শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দিলেন কংগ্রেসের টানা ৫বারের বিধায়ক রতন লাল নাথ। তার সঙ্গে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন রাজ্য মহিলা কংগ্রেস সভানেত্রী হিমানী দেববর্মা সহ প্রদেশ কংগ্রেসের এক ঝাঁক নেতা নেত্রী।
শুক্রবার পূর্ব ঘোষণা মতে বিজেপিতে শামিল হয়েছেন বিধায়ক রতন লাল নাথ। রতনলাল নাথের সঙ্গে আজ বিজেপিতে শামিল হয়েছেন মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী তথা আগরতলা পুর নিগমের সদস্য হিমানী দেববর্মা। একেই সঙ্গে রতন লাল নাথের হাত ধরে বিজেপিতে সামিল হয়েছেন এক ঝাঁক নেতা ও কর্মী। আগরতলার বনমালিপুর বিধানসভা কেন্দ্রেও তিনি কংগ্রেসের বড় ধরনের ধস নামিয়ে এনেছেন। ধর্মনগর বিধানসভার কেন্দ্র তথা উত্তর জেলার বেশ কয়েকজন নেতাও তার সঙ্গে বিজেপিতে সামিল হয়েছেন।

১৯৯৩ সাল থেকে টানা রাজ্য বিধানসভার সদস্য রতন লাল নাথ। আইন সভার সদস্য হিসাবে বিভিন্ন সময়ে বিধানসভায় ভেতরে এবং বাইরে সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে, তিনি বিভিন্ন মহলে যথেষ্ট প্রসিদ্ধ লাভ করেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি রাজ্য বিধানসভায় বিরোধী দলনেতাও ছিলেন।
রতন লাল নাথের দলবল নিয়ে বিজেপিতে সামিল হওয়ায় প্রদেশ কংগ্রেসের কার্যত বিপর্যয়ের মুখে এসে ঠেকেছে। এখন কংগ্রেসের মাত্র দুজন এখন বিধানসভার সদস্য রয়েছেন। প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সদস্য অনেকেই বিজেপিতে সামিল হয়ে গেছেন।
বিজেপিতে যোগদানের পর রতনলাল বেগমথিত কণ্ঠে তিনি সমর্থকদের প্রতি কোনও ধরনের পদের লালসা না করে নতুন ভারত, নতুন ত্রিপুরা গঠনে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার ডাক দেন।
বিজেপির সর্বভারতীয় সম্পাদক রাম মাধবের কাছ থেকে দলের পতাকা নিয়ে বিজেপিতে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের পর স্বাগত মঞ্চে প্রদত্ত এক ভাষণে রতনলাল নাথ বলেন, “ত্রিপুরায় এখন পরিবর্তন আসন্ন। তবে লড়াই সিপিআইএম-এর বিরুদ্ধে নয়। দুর্নীতিগ্রস্ত বামফ্রন্ট সরকার এবং তার প্রধান মানিক সরকারের বিরুদ্ধে। এই সংগ্রামে সবাইকে সাধ্য অনুযায়ী সহায়সম্বল নিয়ে শামিল হতে হবে। রাজ্যের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের কাছে এখন একমাত্র বিকল্প বিজেপি। আর তাই সবাইকে সম্মিলিতভাবে নয়া আরত গড়ার দায়িত্ব পালন করতে হবে।”

তিনি বলেন, “মহাভারতের যুদ্ধ শুরু হচ্ছে ত্রিপুয়ার। দুটি গোষ্ঠী আড়াআড়ি বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে। একটি সত্যের পক্ষে, অন্যটি অসত্যের পক্ষে। এখন সবাইকে বিবেচনা করতে হবে কে কোন দিকে যাবেন। বিজয় সত্যেরই হবে।” জোরের সঙ্গে বলেন নব্যবিজেপি রতনলাল।
আবেগমথিত কণ্ঠে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দুর্নীতিমুক্ত, দূষণমুক্ত, আতঙ্কবাদমুক্ত, নতুন ভারতের ডাক দিয়েছেন। ২০২২ সালের মধ্যে সমগ্র বিশ্বে এক উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করতে চলেছে ভারত। আর নরেন্দ্র মোদী এর কাণ্ডারি। এ লক্ষ্যে তিনি কাজ করে চলেছেন। এই সময় পর্যন্ত আমি কিংবা আমার মতো হয়তো অনেকেই জীবিত থাকবেন না। কিন্তু ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অবশ্যই কিছু করে যেতে হবে। অন্যথায় পরবর্তী প্রজন্ম ক্ষমা করবে না।”

তিনি আরও বলেন, “দুর্নীতি সবচেয়ে বড় শত্রু। আর মানিক সরকার নেতৃত্বাধীন সরকার এই দুর্নীতিকেই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। রাজ্যের আপামর জনগণের স্বার্থে এখন পরিবর্তন প্রয়োজন।”
রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ আত্মস্থানন্দ মহারাজের একটি উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি নরেন্দ্র মোদীকে এক সাধকপুরুষ বলে অবিহিত করেছেন এবং তিনি নতুন যুগের দিশারী বলেও উল্লেখ করেন।

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ত্ৰিপুরায় অমিত শাহর জনসমাবেশ সফল করার প্ৰস্তুতি বিজেপি-র

আগরতলা: আগামী ৭ জানুয়ারি ত্ৰিপুরার আমবাসা ও উদয়পুরে বিজেপি-র সৰ্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহর নিৰ্বাচনী জনসমাবেশকে ...