Home » পশ্চিমবঙ্গ » পুলিশ ও রাজ্য সরকারের প্রতি বিষোদগার, মহিলা কমিশনের সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের পুলিশের

পুলিশ ও রাজ্য সরকারের প্রতি বিষোদগার, মহিলা কমিশনের সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের পুলিশের

বীরভূম: পুলিশ ও রাজ্য সরকারের প্রতি বিষোদগার উগড়ে দিয়েছিলেন জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্যা সুষমা সাহু। বীরভূম জেলা পুলিশ সুপারকে বোলপুরের ঘটনায় রীতি মতো ধমকের শুরে ফোনে কথা বলেন বলে অভিযোগ। সেই ঘটনায় পুলিশ যে ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নয় তা এদিন কমিশনের সদস্যার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেই বুঝিয়ে দিল বীরভূম পুলিশ।

প্রসঙ্গত, বীরভূমের বোলপুর থানার রজতপুরের বাসিন্দা ২২ বছরের ওই যুবতি। ১২ ডিসেম্বর গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। তারপর রবিবার গভীর রাতে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে মারা যায় সেই নির্যাতীতা তরুণী। এই ঘটনায় রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে বারবার সরব হয়েছে রাজনৈতিক দল গুলি। বিশেষ করে বিজেপির রাজ্য মহিলা মোর্চার সভানেত্রি প্রথম থেকেই রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে লাগাতার কটাক্ষ করে চলছেন। তবে এই ঘটনায় খবর পেয়ে নির্যাতিতা মহিলার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এবং পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে শুক্রবার বোলপুরের রজতপুরে নির্যাতিতার বাড়িতে এসে পৌছায় জাতীয় মহিলা কমিশনের একটি প্রতিনিধি দল। সেই দলে ছিলেন কমিশনের সদস্যা সুষমা সাহু। নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর তিনি সংবাদ মাধ্যমের সামনে বোলপুর থানার আইসি সুবীর চক্রবর্তীকে তীব্র ভাষায় ভর্তসনা করেন তিনি। সেই সঙ্গে জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে ধমকের শুরে কথা বলেন। তার উপস্থিতির সময় জেলা পুলিশ সুপারের অনুপস্থিতি নিয়েও তিনি ক্ষোভ উগড়ে দেন। তিনি পুলিশের পোষাক খুলে রাখার নিদান দেন। সুষমা দেবী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিত খুব দুর্ভাগ্যজনক। আগে ভেবে গর্ব হত যে, কোনও রাজ্যে মহিলা মুখ্যমন্ত্রী আছেন। ভাবা হয়েছিল, এখানকার মহিলারা সুরক্ষিত থাকবেন। উনি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর মনে হয়েছিল মহিলাদের হকের জন্য আওয়াজ তুলতে কেউ এসেছেন। কোনও বাঘিনী এসেছেন। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, ওই বাঘিনী কেবল গদি পাওয়ার জন্য এসেছিলেন। একটি পরিবারের বাচ্চা পুড়ে মারা যাচ্ছে। দুঃখের বিষয় হাসপাতাল পুলিশকে কোনও খবর দেয়নি। ওই মেয়েটির পরিবার ছটপট করে বর্ধমানে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। ৬-৭ দিন ওই পরিবার ভিক্ষে করেছে চিকিৎসকের কাছে নিজেদের পুড়ে যাওয়া মেয়ের চিকিৎসার জন্য। এই পরিস্থিতিতে মেয়েটিকে আইসিইউ বা কোনও চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। মানবতাকে ছাড়িয়ে গেছে এই বিষয়।” সেই সঙ্গে তিনি এই ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা দায়ের নিয়েও ক্ষোভ উগড়ে দেন। এছাড়া তিনি সিউড়ির তাপাইপুরের নির্যাতিতার অভিযোগ, মহম্মদবাজার থানা অভিযোগ না নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ওই থানার আধিকারিক জানেন না, কোনও নির্যাতিতা ভারতের যে কোনও থানায় অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর ওই অভিযোগ নির্দিষ্ট থানায় স্থানান্তরিত হয়ে যায়। দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, হয় এখানকার পুলিশের প্রশিক্ষণ নেই, না হয় তাদের বিবেক বিক্রি হয়ে গেছে।” পুলিশের বিরুদ্ধে এই ভাবে বারবার কটাক্ষ এবং ভর্তসনা করার ঘটনার পর শনিবার জেলা পুলিশের তরফে বোলপুর থানার আইসি সুবীর চক্রবর্তী জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্যার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এই ঘটনার পর জেলা পুলিশ সুপার নীল কান্তম সুধীর কুমার বলেন, “এই বিষয়ে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়।”

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

উলুবেড়িয়া উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীর নাম ঘোষণা নিয়ে ধন্দ

কলকাতা: উলুবেড়িয়া লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত ঘোষণা নিয়ে ধন্দ দেখা দিয়েছে৷ দলের ...