Home » পশ্চিমবঙ্গ » ‘শাস্তিপ্রাপ্ত’ প্রবীন আমলাকে ফের প্রশাসনে ফেরাতে চলেছেন মমতা

‘শাস্তিপ্রাপ্ত’ প্রবীন আমলাকে ফের প্রশাসনে ফেরাতে চলেছেন মমতা

কলকাতা: প্রায় ৯ মাস আগে ‘শাস্তিপ্রাপ্ত’ উচ্চ পদের এক আইএএস অফিসারকে নয়া পদ দিয়ে ফিরিয়ে আনতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। রাজ্য প্রশাসণের কাছে এটা একটা মস্ত বড় চমক। ঠিক এ রকম ঘটনা নজীরবিহীনও বটে! কলকাতা বন্দরের চেয়ারম্যান ছিলেন রাজেন্দ্র পি সিং কাহালোঁ। ঘূষ নেওয়ার অভিযোগে গত মার্চ মাসে তিনি গ্রেফতার হন। তার আগে তিনি দীর্ঘকাল রাজ্য প্রশাসনের নানা দায়িত্বে ছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর নেকনজরে না পড়ে ক্ষুব্ধ হন কাহালোঁ। এই প্রতিবেদককে সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন, পছন্দের কোনও দায়িত্ব পেলে কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে চলে যেতে আগ্রহী। রাজ্য থেকে ওই আমলার কেন্দ্রীয় প্রশাসনে চলে যাওয়ার ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রীও সম্মতি দেন।

দিল্লির নির্দেশে কলকাতা বন্দরে চেয়ারম্যান করে পাঠানো হয় কাহালোঁকে। নতুন জটিলতা শুরু হয়। কেন্দ্রের নির্দেশে বন্দরের জমির নানা অংশ দখলমুক্ত করতে উদ্যোগী হন কাহালোঁ। বন্দর এলাকার অন্তর্গত সাধারণ মানুষের ব্যবহারের উপযোগী রাস্তা সংস্কার, বকেয়া পুরকর ও সংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে কলকাতা পুরসভা ও রাজ্যের সঙ্গে বিরোধ শুরু হয় বন্দর কর্তৃপক্ষের। আইনের সাহায্যে বন্দরের জমি থেকে মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বলে চিহ্ণিত এক প্রভাবশালী চলচ্চিত্র প্রযোজকের স্টুডিও তুলে দেওয়া নিয়ে তুমুল আলোড়ণ হয়। এ রকম এক অবস্থায় গত মার্চ মাসে কলকাতার এক হোটেলে পুলিশ কাহালোঁকে গ্রেফতার করে। পরে তিনি জামিন পান। তাঁকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়।
কাহালোঁর গ্রেফতারের পর ‘রাজনৈতিক চক্রান্তের’ অভিযোগ ওঠে। সূত্রের খবর, এর পর বিভিন্ন তরফে কাহালোঁকে রাজ্য প্রশাসনে ফিরিয়ে নেওয়ার আর্জি জানানো হয় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। এই অবস্থায় কাহালোঁকে পশ্চিমবঙ্গ ভূমি সদ্ব্যবহার পর্ষদের সদস্যসচিব হিসাবে নিয়োগ করার ব্যাপারে সায় দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ১৯৭৫ সালের মে মাসে রাজ্যস্তরে উচ্চপর্যায়ের এই পর্ষদ তৈরি হয়। মূল লক্ষ্য, ব্লকভিত্তিক জমির সদ্ব্যবহারের মানচিত্র তৈরি। পর্ষদে বিভিন্ন বিভাগের সচিব থাকায় সদস্যসচিব পদে প্রবীন আইএএসের নিয়োগ কাঙ্খিত। কাহালোঁ এই পদে উপযুক্ত। রাজ্য সরকার তাঁর জন্য বিধি মেনে বাড়তি একটি অতিরিক্ত মুখ্য সচিব পদ তৈরির অনুমতি চেয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীনিয়োগ ও প্রশিক্ষণ বিভাগের কাছে।

আইএএস মহলে রাজ্যের এই সিদ্ধান্ত রীতিমতা আলোড়ণ ফেলেছে। অনেকে তাঁর পুনর্বাসনের ব্যাপারে রাজ্যের আগ্রহী হওয়ার কারণ খুঁজছেন। সূত্রের খবর, আগামী বছর এপ্রিল মাসে কাহালোঁর অবসর নেওয়ার কথা। বাধ্যতামূলক ছুটিতে থাকা অবস্থায় কোনও পদস্থ আমলার অবসর তাঁর এবং সমগ্র আমলাকূলের কাছে খুব অস্বস্তিকর। অনেকের অনুমান, মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে রাজ্য প্রশাসনে ফের ফিরিয়ে এনে প্রশাসকদের কাছে এই স্বস্তির বার্তা দিতে চান। এ ছাড়াও তিনি বুঝিয়ে দিতে চান, যে কোনও আমলার ভাগ্য নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি মুখ্যমন্ত্রীর নিজের হাতেই।

About admin

x

Check Also

উলুবেড়িয়া উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীর নাম ঘোষণা নিয়ে ধন্দ

কলকাতা: উলুবেড়িয়া লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত ঘোষণা নিয়ে ধন্দ দেখা দিয়েছে৷ দলের ...