একদা বরাক উপত্যকাই ছিল অসম বিজেপির আঁতুড় ঘর। আজ রাজ্যে বটবৃক্ষে পরিণত হয়েছে দলটি। বহু আশা-প্রত্যাশা নিয়ে অনেক পথ পাড়ি দিয়ে রাজ্যের ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি । কিন্তু এরকম প্রেক্ষাপটে বরাকের বিজেপি নেতা-বিধায়করা যে দিসপুরে তেমন গুরুত্ব পাচ্ছেন না তা ফের প্রমাণিত হল করিমগঞ্জের একটি ঘটনায়। আমলাতন্ত্রের সামনে কার্যত হার মেনেছেন করিমগঞ্জের বিজেপি বিধায়করা।
ঘটনাটি ২০১৭ সালের ২২ জানুয়ারির। করিমগঞ্জ জেলার জল সম্পদ বিভাগের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার অচিন্ত রায়ের নামে নানা অভিযোগ উত্থাপন করে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নালিশ জানিয়েছিলেন পাথারকান্দির বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু পাল, রাতাবাড়ির বিধায়ক কৃপানাথ মালাহ ও প্রাক্তন বিধায়ক মিশনরঞ্জন দাস। ২৫ জানুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী অভিযুক্ত আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন মুখ্য সচিবকে। এরপর মুখ্যসচিব থেকে প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি, বিভাগীয় সেক্রেটারি ও বিভাগীয় মন্ত্রীর হাতে ফাইল পৌঁছাতে কয়েক মাস অতিক্রান্ত হয়ে যায়। ১লা সেপ্টেম্বর মুখ্যমন্ত্রীর অন্য এক নির্দেশে বরাকের তিন জেলা ও ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার জল সম্পদ বিভাগের বেশ কয়েকটি ডিবিশনের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারদের অন্যত্র বদলি করা হয়। কিন্তু অচিন্ত রায় করিমগঞ্জ ছাড়েননি রহস্যজনক কারণে। ৫ সেপ্টম্বর তার বদলি একমাসের জন্য স্টে হয়। ফের নমামি বরাক উৎসবের কারণ দর্শিয়ে উৎসব অবধি তার বদলি স্থগিত রেখে দ্বিতীয় স্টে-অর্ডার ইস্যু হয় দিসপুর থেকে। নমামি বরাক উৎসব শেষ হওয়ার পরও তিনি করিমগঞ্জ ছাড়েননি। আজও দিসপুরের আশির্বাদে বহাল তবিয়তে করিমগঞ্জেই রয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল, গত ১৫ ডিসেম্বর শিলচর ও হাইলাকান্দি ডিবিশনের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারদের ফের বদলি করা হলেও করিমগঞ্জের ক্ষেত্রে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সারা অসমের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়াররা বদলির নির্দেশ জারি হওয়ার পর নতুন কর্মক্ষেত্রে যোগ দিলেও টলানো যায়নি অচিন্ত রায়কে। সে যাইহোক, মূল প্রশ্ন হল, নির্বাচিত বিজেপি প্রতিনিধিদের অবস্থান নিয়ে। তাঁরা কী দিসপুরে গুরুত্ব পাচ্ছেন না?
গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল, মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রীসভার সদস্যরা সব সময়ই স্বচ্ছ প্রশাসনযন্ত্র রাজ্যবাসীকে উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন। এরকম পরিস্থিতিতে বিরোধী দলের নেতা-বিধায়ক নয়, খোদ বিজেপি দলের বিধায়ক ও মিশনরঞ্জন দাসের মতো সিনিয়র বিজেপি নেতার লিখিত আবেদন জানানোর পরও তা আজ পর্যন্ত গুরুত্ব পেল না দিসপুরে। অথচ ওই আধিকারিকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপন করেছিলেন মিশনরঞ্জন দাস, কৃষ্ণেন্দু পাল ও কৃপানাথ মালাহ। এটাই কি বিজেপির স্বচ্ছ প্রশাসনযন্ত্রের উপহার?

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*