Home » সংবাদ শিরোনাম » জাতীয় নাগরিকপঞ্জি-১৯৫১ নবায়ন, ১৯৮০ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭

জাতীয় নাগরিকপঞ্জি-১৯৫১ নবায়ন, ১৯৮০ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭

গুয়াহাটি: জাতীয় নাগরিকপঞ্জি-১৯৫১ নবায়নের দাবি ও প্রক্রিয়া সম্পর্কীয় ঘটনাক্রম।

১৯৮০ সালের ১৮ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের কাছে সারা অসম ছাত্র সংস্থা (আসু)-র স্মারকপত্র। ওই সালেরই ২ ফেব্রুয়ারি ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে আসু প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ এবং স্মারকপত্র। ১৯৯০ সালে সরকারের কাছে এনআরসি-র মডালিটি তুলে দেয় আসু। এর পর ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর দিল্লিতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক করেছে ছাত্র সংগঠনটি। ওই সালেই এনআরসি নবায়ন খাতে ২০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ কেন্দ্রের। অথচ এ থেকে পাঁচ বছরে মাত্র পাঁচ লক্ষ টাকা খরচ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে ২০০৫ সালের ৫ মে এ বিষয়ে ফের ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হয় আসু-র। ওই সালেই অসমে গঠন করা হয় এনআরসি ডিরেক্টরেট। অধিকর্তা পদে নিয়োজিত করা হয় দীপক শর্মাকে। রাজ্য ও কেন্দ্রে তখন কংগ্রেস সরকার। ২০০৮ সালের ৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীকে এনআরসি সম্পর্কে চিঠি লেখেন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈয়ের।

নাগরিকত্ব বিধি-২০০৩-এ ৪ (ক) দফা সংযোজন করে এনআরসি-১৯৫১ এবং ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের ভোটার তালিকার ভিত্তিতে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি নবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ২০০৯ সালে। ওই সালেই ২৫ মে ভোটার তালিকায় বংলাদেশিদের নাম রয়েছে বলে শুদ্ধ এনআরসি তৈরির দাবিতে সুপ্রিমকোর্টে আবেদন জানায় আসাম পাবলিক ওয়ার্কস (এপিডব্লিউ) নামের এক অরাজনৈতিক সংগঠন। ৭ জুলাই এপিডব্লিউ-এর আবেদনের ভিত্তিতে মামলা রেজিস্টার্ড হয়।
২০১০ সালের ২২ এপ্রিল, কেন্দ্রীয় স্বারাষ্ট্রসচিব জিকে পিল্লাইয়ের উপস্থিতিতে রাজ্য ও আসু ত্রিপাক্ষিক বৈঠক। ওই সালেই বিষয়টির দায়িত্ব দেওয়া হয় রেজিস্ট্রার জেনারেল অব ইন্ডিয়ার হাতে। সে বছরের ১ জুন বরপেটা ও ছয়গাঁওয়ে শুরু হয় পাইলট প্রজেক্টের কাজ। ২১ জুলাই এনআরসি নবায়নের কাজে বাধা দিতে গিয়ে ব্যাপক হিংসার ঘটনা ঘটে । যা বরপেটাকাণ্ড বলে খ্যাত। পরবর্তীতে ২০১০ সালের শেষের দিকে তদানীন্তন মন্ত্রী ডাঃ ভূমিধর বর্মনের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

২০১১-এর ২৩ ফেব্রুয়ারি। এপিডব্লিউ-এর মামলার ভিত্তিতে রায় ঘোষণা করা হবে বলে জানায় সুপ্রিমকোর্ট। রায়ের বদলে সুপ্রিমকোর্টের সরাসরি তত্ত্ববধানে এনআরসি নবায়ন চেয়ে ফের আবেদন দাখিল করে এবিডব্লিউ।
১৯৫১ সালকে ভিত্তিবর্ষ সংক্রান্ত এক তথ্যের ভিত্তিতে ২০১২ সালে সুপ্রিমকোর্টে আবেদন করে অসম সম্মিলিত মহাসংঘ নামের আরেক সংগঠন। ১৬ আগস্ট, ক্যাবিনেট উপ-সমিতি কর্তৃক তৈরি প্রতিবেদন রাজ্য ক্যাবিনেটে গৃহীত। ২৯ আগস্ট রাজ্যের গৃহ ও রাজনৈতিক দফতর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে পাঠায় এনআরসি নবায়নের মডালিটি।

সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশে ২০১৩ সালের ২ এপ্রিল এ সম্পর্কীয় তথ্য উচ্চতম আদালতে জমা দেয় এপিডব্লিউ। ৮ মে, সুপ্রিমকোর্টে এনআরসি-র মডালিটি দাখিল করে সরকার। ওই সালের সেপ্টেম্বরে এনআরসি-র রাজ্য সমন্বয়ক (স্টেট কোঅর্ডিনেটর) পদে আইএএস আধিকারিক প্রতীক হাজেলাকে নিয়োজিত করা হয়। এর পর ১৮ অক্টোবর এনআরসি-র মডালিটি চূড়ান্ত করতে কেন্দ্রকে নির্দেশ সুপ্রিমকোর্টের। ২৩ আগস্ট ভারত সরকারের উপ-সচিবের চিঠি আদালতে দাখিল করেন কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল রাজেশ খান্না। সেই বছরের ১৮ অক্টোবর এনআরসি নবায়ন প্রক্রিয়া খাতে অসমকে ৪৮৯ কোটি টাকা দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। পরবর্তীতে ২৫ অক্টোবর আদালতে এক শপতনামা দাখিল করেন শম্ভু সিং।
২০১৪ সালের মার্চ থেকে শুরু হয় এনআরসি নবায়নের কাজ। ৪ আগস্ট, সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি জাস্টিস রঞ্জন গগৈকে এনআরসি মামলার প্রধান বিচারক পদে নিয়োগ করা হয়। ২৩ সেপ্টেম্বর ১৮ মাসের মধ্যে এনআরসি নবায়ন সংক্রান্ত সংশোধিত সূচি দাখিলের নির্দেশ। সেই বছর ৭ ডিসেম্বর — ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যে নবায়িত এনআরসি তৈরি করার সময়সীমা বেঁধে দেয় আদালত।

২০১৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। রাজ্যে স্থাপিত ১০০টি এনআরসি সেবাকেন্দ্র। ২৭ মার্চ, রাজ্যজুড়ে ২,৫০০টি এনএসকে স্থাপন। ওই সালের এপ্রিলে লিগ্যাসি ডাটা ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিয়ে আসা হয়। ২৩ মে বাংলাদেশ সীমান্ত সম্পর্কে কোর্ট কমিশনারেট নিয়োগ করে দিয়েছিল আদালত। জুন থেকে শুরু হয় এনআরসি সম্পর্কিত ফর্ম বিতরণ। ৩১ আগস্ট ছিল পূরণ করা ফর্ম জমা দেওয়া শেষ দিন। নথিপত্র যাচাই প্রক্রিয়া শুরু ১ সেপ্টেম্বর থেকে। এনআরসি প্রস্তুতের সময়সীমা বাড়াতে আদালতে সে বছরের ১ ডিসেম্বর আর্জি জানায় কর্তৃপক্ষ। ওই সালে শেষের দিকে বিষয়কে কেন্দ্র করে উচ্চতম আদালতে মামলা পূর্বোত্তর হিন্দুস্তানি সন্মিলন এবং অসম সাহিত্য সভার।
২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এনএসকেগুলোতে বিশেষ পুনরীক্ষণ প্রক্রিয়া শুরু। এনআরসি সম্পর্কে সুপ্রিমকোর্টে আবেদন প্রণবকুমার মজুমদারের।

২০১৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এনআরসি নবায়ন প্রক্রিয়ায় পঞ্চায়েত নথি অবৈধ বলে রায় গুয়াহাটি উচ্চ আদালতের। পরে আমসু, জমিয়ত উলেমা-ই হিন্দ এই রায়ের বিরুদ্ধে চেলেঞ্জ করে যায় সুপ্রিমকোর্ট। ১২ অক্টোবর ৪৭.৯ লক্ষ নাগরিক যাঁরা পঞ্চায়েত নথি জমা দিয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে ১৭.৪ লক্ষকে প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক বলে ঘোষণা। ২৭ অক্টোবর আরজিআই এস শৈলেশ আসেন গুয়াহাটি। তিনি রাজ্যের সব জেলাশাসক, পুলিশ সুপারদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সিঙের মাধ্যমে এনআরসির অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
২ নভেম্বর তাঁর সঙ্গে রাজ্যের আটটি দল ও ৪২টি সংগঠনের পদাধিকারীর বৈঠক। ৯ নভেম্বর ১.২৩ কোটি প্রদত্ত নথির পরীক্ষা হয়নি বলে সুপ্রিমকোর্টে জানান রাজ্য সমন্বয়ক প্রতীক হাজেলা। এর পর ১৬ নভেম্বর ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত এনআরসি-র খসড়া প্রকাশের সমায়সীমা বাড়াতে আবেদন জানায় কেন্দ্রীয় সরকার। ওই আবেদনে সায় না দিয়ে ৩০ নভেম্বর নারাজ সুপ্রিমকোর্ট কড়া নির্দেশ দেয়, ৩১ ডিসেম্বরই প্রকাশ করতে হবে এনআরসি-র নবায়িত খসড়া।

এর পর পঞ্চায়েত নথি গ্রাহ্য হবে বলে চলতি বছর চলতি মাসের ৫ তারিখ রায় দেয় সুপ্রিমকোর্ট। ২১ ডিসেম্বর ফের গুয়াহাটি আসেন আরজিআই শৈলেশ। ২৫ ডিসেম্বর আংশিক খসড়ার রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন।
অবশেষে ৩১ ডিসেম্বর, মধ্যরাত, ১২,০২ টায় আরজিআই এস শৈলেশ এবং প্রতীক হাজেলা প্রকাশ করেন বহু প্রতীক্ষিত এনআরসি-র নবায়িত প্রথম আংশিক তালিকা।

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

তিন তালাক বিরোধী বিল নিয়ে সরব মমতা বন্দোপাধ্যায়

আমোদপুর: নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাকযুদ্ধ অব্যাহত| বিমুদ্রাকরণকে হাতিয়ার করে এতদিন তুলোধনা ...