Home » উত্তর-পূর্ব ভারত » বিধানসভা নির্বাচনের আগে মেঘালয়ে বিজেপি-তে যোগদানের হিড়িক

বিধানসভা নির্বাচনের আগে মেঘালয়ে বিজেপি-তে যোগদানের হিড়িক

শিলং: মেঘালয়ে ভারতীয় জনতা পাৰ্টি (বিজেপি)তে যোগদানের হিড়িক পড়েছে৷
২০১৮-র রাজ্য বিধানসভা নিৰ্বাচনের আগে কংগ্ৰেস নেতা আলেকজান্ডার হেক সহ আরও চারজন বিধায়ক মঙ্গলবার মেঘালয় বিধানসভা থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন৷ সোমবার বিজেপি-র এক কৰ্মকৰ্তা একথা জানিয়েছেন৷
বিজেপি-তে যোগদান করতে চলেছেন যেসকল বিধায়ক তাঁরা হলেন ‘ন্যাশনালিস্ট কংগ্ৰেস পাৰ্টি’র বিধায়ক সানবর শুল্লাই এবং দুই নিৰ্দল বিধায়ক জাস্টিন ড্‌খার ও রবিনাস সিংকন৷
কংগ্ৰেস বিধায়ক হেক আইএএনএস-কে বলেন, ‘মঙ্গলবার আমরা মেঘালয় বিধানসভা থেকে ইস্তফা দিতে চলেছি এবং তারপর গল্‌ফ লিংকস-এর এক জনসভায় বিজেপি-তে যোগদান করতে চলেছি৷’
মঙ্গলবারের এই জনসভায় যোগদান করতে চলেছেন কেন্দ্ৰীয় পৰ্যটন মন্ত্ৰী কেজে আলফোনস৷ তিনি আবার মেঘালয় নিৰ্বাচনের ভারপ্ৰাপ্ত৷ এছাড়া, জনসভায় আসছেন অসমের শিক্ষা-স্বাস্থ্য-অৰ্থমন্ত্ৰী এবং ‘নৰ্থ-ইস্ট ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স’-এর আহ্বায়ক ডঃ হিমন্তবিশ্ব শৰ্মা৷ যোগ দেবেন আরও অনেক নেতাই৷
বিজেপি রাজ্য সভাপতি শিবুন লিংডো বলেন যে জাতীয় পৰ্যায়ে কেন্দ্ৰের বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের সাৰ্বিক ‘পারফরম্যান্স’-এর উপর নজর রেখেই চারজন বিধায়কই বিজেপি-তে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন৷
আইএএনএস-কে লিংডো বলেন, ‘ক্রমবিকাশশীল ও সুখী পরিবার (বিজেপি)-র শরিক হতে কে না চায়? আগামী দিনগুলিতে দেখতে পাওয়া যাবে আরও বিস্ময়, যখন আরও বিধায়ক আমাদের সঙ্গে যোগদান করবেন৷’
কংগ্ৰেস বিধায়ক হেক অবশ্য একসময়ে ছিলেন বিজেপি-তেই৷ কিন্তু, তিনি পরবতৰ্ীকালে রাজ্যের একজন বিধায়ক হিসাবে নিৰ্বাচিত হন৷ গত বছর মুখ্যমন্ত্ৰী মুকুল সাংমা তাঁকে মন্ত্ৰীসভা থেকে বরখাস্ত করার আগে তিনি ছিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্ৰী৷
হেক বিজেপি টিকিটে জিতেছিলেন ১৯৯৮, ২০০৩ ও ২০০৮ সালের বিধানসভা নিৰ্বাচনে৷ তবে ২০০৯ সালে তিনি কংগ্ৰেসে যোগদান করেন৷ ২০১৩ সালের বিধানসভা নিৰ্বাচনে তিনি কংগ্ৰেসের টিকিটে নিৰ্বাচনী লড়াইয়ে অবতীৰ্ণ হয়ে ফের ছিনিয়ে নেন পাইথোমখ্‌রাহ কেন্দ্ৰটি৷
এনসিপি-র মেঘালয় শাখার সভাপতির পদ থেকে ছাঁটাই করা হয়েছে বিধানসভার প্ৰাক্তন অধ্যক্ষ সানবর শুল্লাই৷
সাইংকন একসময়ে ছিলেন সংসদীয় সচিব, যিনি সাংমার-নেতৃত্বাধীন কংগ্ৰেস সরকারের উপর থেকে সমৰ্থন প্ৰত্যাহার করে নিয়েছিলেন৷
মেঘালয়ের সৰ্বশেষ রাজনৈতিক ঘটনাটি তখনই দেখতে পাওয়া গিয়েছে যখন ক্ষমতাসীন কংগ্ৰেস সরকারের ছয়জন বিধায়ক ‘ন্যাশনাল পিপ্‌লস পাৰ্টি’ (এনপিপি)-র টিকিটে নিৰ্বাচনে প্ৰতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য শেষ পৰ্যন্ত রাজ্য বিধানসভা থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন৷ কেন্দ্ৰের এনডিএ সরকারের শরিক হলো এনপিপি৷
প্ৰাক্তন কংগ্ৰেস বিধায়ক পিএন সিয়েম ইতিমধ্যে মেঘালয় বিধানসভা থেকে ইস্তফা দিয়ে যোগদান করেন নবগঠিত ‘পিপ্‌লস ডেমোক্র্যাটিক ফ্ৰন্ট’-এ৷ তিনি হলেন ‘খাসি হিল্‌স স্বাশাসিত জেলা পরিষদ’-এর মুখ্য কাৰ্যনিৰ্বাহী৷
অন্য পাঁচজন কংগ্ৰেস বিধায়ক হলেন রাওয়েল লিংডো, প্ৰেসটোন টাইনসং, কমিং ওয়ান ইমবন, স্নাইআওভালাং ধ্ব এবং ন্‌গাইত্‌লাং ধ্ব৷ আর তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন ‘ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক পাৰ্টি’র প্ৰাক্তন বিধায়ক রেমিংটন পাইনগ্ৰোপ এবং নিৰ্দলের হপফুল বামন এবং স্টিফানসন মুখিম৷ আগামী ৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় এক জনসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এনপিপি-তে যোগদান করবেন৷

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

শিলচরে আত্মঘাতী যুবক, এনআরসি খসড়ার সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই, জানিয়েছে জেলা পুলিশ

শিলচর: কাছাড় জেলায় এক ব্যক্তির আত্মহত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আত্মহত্যার কারণ হিসেবে গতকাল রাতে ...