পুরনো সেই দিনের কথা। প্রচারের ফাঁকে আলুওয়ালিয়ার বন্ধুপ্রীতি

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়

কলেজ জীবন পার করে রাজনীতির আঙিনায় পা রাখেন সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া। সাংসদ থেকে তিনি মন্ত্রীও হন। এবারেরও বিজেপির প্রার্থী হয়ে বর্ধমান দুর্গাপুর লোকসভা আসনে তিনি প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। তবে এতসব কিছুর পরেও যৌবন কালের সেইসব রোমাঞ্চর দিনগুলো আজও সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়াকে যেন তাড়িয়ে বেড়ায়।

এটা যে নিছকই কথার কথা নয়, তা প্রৌঢ বয়সে পৌছেও বুঝিয়ে দিলেন স্বয়ং আহলুওয়ালিয়াই।

ভেটের প্রচারে বের হবার আগে শুক্রবার এস এস আলুওয়ালিয়া বর্ধমানের খক্কর শাহ মাজারে পুজো দেন। সেখান থেকে বেরিয়ে দুর্গাপুর যাবার আগে হঠাৎতই আলুওয়ালিয়া একটি গলিতে ঢুকে পড়েন। তাঁর সকর্মীরা কিছুটা ইতস্তত বোধ করলেও আলুওয়ালিয়াকে সে-সময়ে বেশ একটু খোশমেজাজেই দেখা যাচ্ছিল। গলিপথ ধরে আলুওয়ালিজী যখন এগিয়ে যাচ্ছেন সেই সময় বাড়ির সদর দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে এলেন বয়স্কা এক মহিলা। ওই মহিলাকে দেখা মাত্রই আলুওয়ালিয়াজির যেন মনে এসে গেল ফেলে আসা যৌবনকালের সেই সব সোনালি দিনের কথা। নিজের প্রেমকাহানির স্মৃতি যেন তাঁর হৃদয়কে আরো একবার উসকে দিল। মহিলার কাছে পৌছেই তার হাত দুটি ধরে আবেগতাড়িত হয়ে পড়লেন এস এস আলুওয়ালিয়া। ওই মহিলা যদিও কোনও রাজনীতির লোক নন। তিনি এক জন সাধারণ গৃহবধূ। তাঁর নাম পুষ্প ঘোষ। আহলুওয়ালিয়াজির কথায় জানা গেল, তিনি ও তাঁর স্ত্রী মণিকার অভিন্ন হৃদয় বন্ধু হলেন এই পুষ্প।

বন্ধুত্ব অবশ্য আজকের নয়। কথায় কথায় জানা গেল সুরিন্দর সিং তখন আসানসোল বি সি কলেজের ছাত্র। মণিকা আর পুস্প তখন পড়তো আসানসোল গার্লস কলেজের কলা বিভাগে। মণিকা আর পুষ্প দুজনে ছিল ঘনিষ্ট বন্ধু। কলেজ জীবনেই মণিকার সঙ্গে মন দেওয়া-নেওয়া শুরু হয় সুরিন্দরের। আর তাঁদের সেইসব রোমাঞ্চময় জীবনে একমাত্র বিশ্বস্ত সঙ্গী ছিলেন পুষ্প। মণিকা ও সুরিন্দর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পুষ্পদেবীরও বিবাহ হয় বর্ধমানে। এই পুষ্পদেবীর একমাত্র সন্তান সোমনাথ অধ্যাপনা করেন। সুরিন্দর ও মণিকার ভরা সংসার। সুরিন্দর সাংসদ থেকে মন্ত্রী হয়েছেন। কিন্তু যৌবনকালের প্রিয়বন্ধুকে যে তিনি ও মণিকা আদৌ ভোলেননি তা এদিন প্রকাশ ভঙ্গিতেই সুরিন্দর বুঝিয়েদিলেন।

বর্ধমান দুর্গাপুর লোকসভা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী সুরিন্দর সিং আহলুওয়ালিয়াই কি কলেজ জীবনের বন্ধু সুরিন্দর! তানিয়ে অবশ্য দোনামনায় ছিলেন পুষ্পদেবী। এদিন সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া পুষ্পদেবীর কাছে পৌছতেই দোনামনার অবসান হল। পুষ্পদেবী কলেজজীবনে সুরিন্দরের দেওয়া টফির গল্প তুলতেই হাসিতে ডগমগ হলেন সর্দারজী। হেভিওয়েট প্রার্থীর এহেন বন্ধুপ্রীতি দেখে তারিফ না করে পারলেন না বিজেপি কর্মীরা।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *