প্রার্থীকে গ্রামে ঢুকতে বাধা, অভিযোগ তৃণমূলের দিকে

অমরনাথ দত্ত, বীরভূমঃ বীরভূম লোকসভা কেন্দ্রের বাম প্রার্থী রেজাউল করিম দুবরাজপুর ব্লকের বিভিন্ন গ্রামে ভোটের প্রচার করার সময় বোধ গ্রামের কাছে তাদের আটকে দেয় বেশ কিছু দুষ্কৃতী। এমনই অভিযোগ বীরভূম লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী রেজাউল করিমের। ঘটনার পর তারা প্রথমে গ্রামের মুখেই বিক্ষোভে বসেন। যদিও পরে আরও বেশি দুষ্কৃতীদের সম্মুখীন হলে  দুবরাজপুর থানার সামনে বিক্ষোভে বসেন। তাদের দাবি অবিলম্বে প্রচারে বাধা দেওয়া দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করতে হবে, ওই এলাকায় মোতায়েন করতে হবে কেন্দ্রবাহিনী।

বামপ্রার্থী রেজাউল করিম জানান, “দুবরাজপুর ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় প্রচারের কাজ চালাতে চালাতে যখন তারা দুবরাজপুর ব্লকের পদুমা পঞ্চায়েতের বোধ গ্রামের কাছে পৌঁছান, তখন গ্রামে ঢোকার মুখেই তাদের বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতী বাইক নিয়ে গ্রামে ঢুকতে বাধা দেয়। দুষ্কৃতীদের মুখে ছিল তৃণমূলের স্লোগান। বাধা দেওয়ার সাথে সাথে ওই দুষ্কৃতীদের তরফ থেকে হুমকিও দেওয়া হয়।”

দলের কর্মী এবং প্রার্থীর আরও অভিযোগ, “তৃণমূলী দুষ্কৃতীদের দ্বারা পুলিশ ও এমসিসি-র গাড়ির সামনেই প্রচারে বাধা প্রাপ্ত হোন তারা। প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়েই আমরা বাম কর্মী সমর্থকরা এলাকায় প্রার্থীকে নিয়ে প্রচারে এসেছিলাম। বোধগ্রাম ঢোকার মুখেই বাধা দেয় তৃণমূলী বাইক বাহিনী। প্রচারের সাথেই ছিল নির্বাচন কমিশনের নজরদারী গাড়ি। কিন্তু তারা পালন করেছে নীরব দর্শকের ভূমিকা। পুলিশকে ফোন করা হলে প্রায় এক ঘন্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। তবে কোনও সদর্থক ভূমিকা পুলিশকে নিতে দেখা যায়নি।”

এরপর বামফ্রন্টের প্রার্থী রেজাউল করিম এবং দলের সমর্থকরা দুবরাজপুর থানার সামনে বিক্ষোভে বসেন। রেজাউল করিম তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘’এখনই এই অবস্থা হলে মানুষ তার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করবে কি করে।” এই মুহুর্তে দুবরাজপুর থানার সামনে বিক্ষোভে বসে তারা বিহিতের অপেক্ষায়।

যদিও পুরো ঘটনাই তৃণমূলের কোনরকম জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন দুবরাজপুর এলাকার ব্লক সভাপতি ভোলা মিত্র। তিনি বলেন, “গ্রামবাসীদের বিক্ষোভের মুখে পরে ফিরতে হয়েছে তাদের। এখন মিথ্যা অভিযোগ নিয়ে আসছেন তৃণমূলের বিরুদ্ধে। আমি যতদূর শুনেছি তাতে ওই সময় ওই এলাকায় ঘটনার সময় কোন পুরুষ মানুষ ছিল না। বাধা দিয়েছে মহিলারাই।”

বাইকবাহিনীর অভিযোগ অস্বীকার করেও ভোলা মিত্র জানান, “দুবরাজপুর এলাকায় আমাদের মাটি যথেষ্ট শক্ত, এখানে বিরোধী দলের কোনো অস্তিত্ব নেই। সুতরাং বাইক বাহিনী গিয়ে কেন তাদের প্রচারে বাধা দেবে? হয়তো রাস্তা দিয়ে যারা বাইক নিয়ে যাচ্ছিল, তারাই হয়তো দাঁড়িয়ে দেখছিল। সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা।”

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *