ভোটের সময় কালো টাকা পাচার হচ্ছে পুলিশের গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্সে!

সামনেই লোকসভা নির্বাচন। প্রচারে নেমেছে সব দলই। এর মধ্যেই একটি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের স্টিং অপারেশনের একাধিক ভিডিও ফুটেজ সামনে এল। তাতে আবার নাম জড়ালো বিজেপির সাংসদ উদিত রাজ থেকে শুরু করে রাজস্থানের ভরতপুরে বিজেপির সাংসদ বাহাদুর সিং কোলে, বিহারের সাংসদ পাপ্পু যাদব সহ আরও অনেকের। স্টিং অপারেশনটির নাম রাখা হয়েছে ‘অপারেশন ভারতবর্ষ’।

ভোটের সময় প্রচারের জন্য কত টাকা খরচ হয়? সোস্যাল মিডিয়ায় প্রচার করতে কত টাকা লাগে? কীভাবে নির্বাচন কমিশনের চোখে ধুলো দিযে সেই টাকা পাচার করা হয়? কোথা থেকে সেই টাকা আসে? এই সমস্ত প্রশ্নের অকপট উত্তর দিতে দেখা গিয়েছে সাংসদদের। বুধবার সকাল থেকেই সেই ভিডিও ফুটেজ সামনে এসেছে।

ওই সর্বভারতীয সংবাদ মাধ্যমের তরফ থেকে প্রকাশিত ভিডিওটিতে রাজস্থানের ভরতপুরের বিজেপি সাংসদ বাহাদুর সিং কোলেকে বলতে দেখা গিয়েছে, ভোটে জিততে মোট খরচ হয় ২ থেকে ৩ কোটি। এর মধ্যে ১ কোটি টাকা দলের কাছ থেকে পাওয়া যায়। তবে অর্ধেক টাকা অর্থাত্ ৫০ লক্ষ টাকা হাওলার মাধ্যমে তার হাতে আসে। এই টাকা পাচারের জন্য সাধারণত অ্যাম্বুলেন্স বা পুলিশের গাড়ি ব্যবহার করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বা কোনও বড় নেতার র‌্যালি থাকলে ৮০লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ করা হয়।

২০১৪ সালে লোকসভা ভোটে জেতার জন্য ৩ কোটি টাকা খরচ করেছিলেন বাহাদুর সিং। নির্বাচনী প্রচারে ৮০০টি গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছিল। আর প্রত্যেক গাড়ি পিছু খরচ হয় ছ হাজার টাকা। এছাড়া তিনি আরও বলেন, নোটবাতিলের কোনও প্রভাব নির্বাচনী প্রচারে পড়বে না। হাওলার মাধ্যমে টাকা ঠিকই পেঁছে যাবে। নির্বাচন কমিশনের নজর এড়াতে ব্যবহার করা হয় অ্যাম্বুলেন্স এবং পুলিশের গাড়ি। শুধু ২০১৪ নয়, আসন্ন লোকসভা নির্বাচনেও এভাবেই কালো টাকায় ভর করেই ভোটে জিততে তৈরি তিনি।

বিহারের মধুপুরের সাংসদ পাপ্পু যাদব এর আগে পাঁচবার ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন, পাঁচবারই জয়ী হন। আর ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে মধুপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে জিতে বর্তমানে সেখানকার সাংসদ রাজেশ রঞ্জন ওরফে পাপ্পু যাদব। ওই সর্বভারতীয সংবাদ মাধ্যমের স্টিং অপারেশনে নাম জড়িয়েছে দোর্দণ্ডপ্রতাপ এই সাংসদেরও। ভিডিওতে পাপ্পু যাদবকে বলতে দেখা গিয়েছে, ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে জিততে তিনি খরচ করেছিলেন ৩.৫ কোটি থেকে ৫ কোটি টাকা। ভোটে জিততে সাধারণ গরিব মানুষকে টাকা দেওযার কথাও স্বীকার করেন তিনি। জানান, এজন্য খরচ হয় ২ থেকে ২.৫ কোটি টাকা। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে খরচ করতে চলেছেন ৮ কোটি টাকা। বিহারে মদ নিষিদ্ধ হলেও ভোটে জিততে সেটাও বিনামূল্যে লোকজনের মধ্যে বিলি করেন পাপ্পু যাদব। এবারের নির্বাচনী প্রচার করবেন রথ এবং হেলিকপ্টারে।

নির্বাচনে প্রচার করতে টাকার ব্যবহারে উত্তর-পশ্চিম দিল্লির বিজেপি সাংসদ উদিত রাজও পিছিয়ে নেই। স্টিং অপারেশনে তাকে বলতে শোনা গিয়েছে, নির্বাচন কেবল কালো টাকা দিয়ে লড়া হয়। রাজনীতিতে কেউই আর সত্ নয়। যে সবচেযে সত্ হওযার দাবি করেন, তিনিই সবচেযে দুর্নীতিগ্রস্ত। গত লোকসভা নির্বাচনে খরচ করেছিলেন ২ থেকে ২.৫ কোটি টাকা। এমনকি তিনি এ-ও বলেছেন, জিএসটি এবং নোটবাতিলে কালো টাকা উদ্ধার না হলেও দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে এই দু’টির খারাপ প্রভাব পড়েছে।

তা ছাড়াও এই স্টিং অপারেশনে নাম জড়িয়েছে রামবিলাস পাশোয়ানের ভাই তথা সাংসদ রামচন্দ্র পাশোযানেরও। তাকে আবার বলতে শোনা গিয়েছে, আগে ভোটে জিততে মদ বিলি করা হতো। আর এখন টাকা বিলি করা হয়। এমনকি গত নির্বাচনে ৮ কোটি টাকা খরচ করার দাবিও জানান তিনি। একইভাবে মহারাষ্ট্রের ওয়ারদার বিজেপি সাংসদ রামদাস টাডাস বলেন, টাকার বিনিমযে সংসদে যে কোনও প্রশ্ন করবেন তিনি। এমনকি নোটবাতিলে কালো টাকার উপর যে কোনও প্রভাব পড়েনি, সেকথাও বলেন। শুধু তাই নয়, আসন্ন নির্বাচনে ২৫ কোটি টাকা খরচ করতে তৈরি তিনি। এছাড়া দলের কাছ থেকে পাঁচ কোটি টাকা পাওয়ার কথাও স্বীকার করেছেন স্টিং অপারেশনে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *