ব্যক্তি নয়, বিজেপি-তৃণমূলের কাজের সমালোচনা করছি

ব্যাক্তি নয়,বিজেপি তৃণমূলের কাজের সমালোচনা করছি, জিতলে জঙ্গলের অধিকার নিয়ে সরব হবো। বললেন ঝাড়গ্রাম লোকসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্টের প্রার্থী দেবলীনা হেমব্রম। তাঁর কথায়, ‘ব্যাক্তি আক্রমণের রাজনীতি আমরা করি না। রাজনৈতিক দলগুলোর আদর্শ ও কাজের সমালোচনা করি। বিজেপি সরকার দেশ শেষ করছে আর তৃণমূল কংগ্রেস বাংলা শেষ করছে। আমরা এই দুই শক্তির বিরুদ্ধে মানুষকে বলছি।’

এবারের ব্রিগেড সমাবেশে ঝাঁঝালো বক্তব্য দিয়ে হাততালি কুড়িয়ে ছিলেন দেবলীনা। রাষ্ট্রীয়ভাবে পিছিয়ে রাখা জনজাতি সমাজের নেত্রী স্বীকার করছেন, ব্রিগেডের সভার পর রাজ্যে একটা বড় পরিচিতি তাঁর হয়েছে। তাছাড়া ভোট প্রচারে গিয়েও মানুষ ভিড় জমাচ্ছে তাঁকে দেখতে। সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য তথা জনজাতি নেত্রী দেবলীনা হেমব্রম যুগশঙ্খকে ফের বলেন, ‘‘মানুষের বেঁচে থাকার জন্য যা দরকার তা চাই। মাদল দিতে হবে না। ওটা আমরা এমনিই বাজাই। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাসস্থান দিন। ঢপবাজি চলবে না! কাজ চাই। কাজ না দিলে আন্দোলন চলবে।

ঝাড়গ্রাম লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী বিরবাহা সোরেন টুডু। এখানে  কুনার হেমব্রমকে বিজেপি প্রার্থী করেছে। কংগ্রেসের যঞ্জেশ্বর হেমব্রম লড়াই করছেন। সব দল একই জনজাতির প্রার্থী দিয়েছে। ফলে দেবলীনা ব্যাক্তি নয়, মানুষের মৌলিক প্রয়োজন নিয়ে কথা বলছেন।

দেবলীনা বলছেন, ‘মানুষের জন্য শিক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা, মহিলাদের আসন সংরক্ষণ, বেকার যুবকদের চাকরি, ১০০ দিনের কাজ, ছেলেদের যাতে বাইরে গিয়ে কাজ না করতে হয়, তার জন্য এলাকায় কাজের ব্যবস্থা,জঙ্গলের অধিকার, গৃহহীনদের সাহায্য করার দাবি নিয়ে মানুষের কাছে যাচ্ছি।

কিন্তু প্রচারে সাড়া পাচ্ছেন কেমন?
সিপিআইএম প্রার্থীর জবাব,’খুবই ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। মানুষ নিজেদের সুখ দুঃখের কথা শুনছে।’

কানহাইয়া, উমর খালিদরা দলিত আদিবাসী সংখ্যালঘুদের নিয়ে বলছেন। এরাজ্যে দেবলীনারা কবে নেতৃত্ব দেবে?
উঠতে দেওয়া হয় না এটা ঠিক না। আমরা মানুষের সাথে থাকবো, কাজ করবো, তাদের বঞ্চনার কথা বলবো, শান্তির কথা বলবো। এখানে উঠতে দেওয়া না দেওয়ার কোনো ব্যাপার নেই।

আপনি কী চান না পশ্চিমবাংলায় একজন এসসি, এসটি নেতা বা পুলিশ কমিশনার বা মুখ্যমন্ত্রী হোক?
নেতৃত্বটা বড় কথা নয়। মানুষের স্বার্থে কাজ করাটাই বড় কাজ। আমরা কাউকে ভাগাভাগি করি না। সমস্ত ধর্ম-বর্ণের সবাই আমরা মানুষ, সবাই এক। তাই ওসব বিচার করি না। আমাদের হৃদয়, চাহিদা সব একই।

স্বাধীনতার এতটা বছর পরেও আদিবাসীদের উপর যে বঞ্চনা সে ব্যাপারে কি বলবেন?
এর বিরুদ্ধেই তো আমাদের লড়াই।

রাজ্যে বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের রাজত্বে বাংলাকে কি উন্নয়নের মোড়কে মোড়া যেত না,এখন আবার আন্দোলন কেন করতে হচ্ছে? সুযোগের সদ্ব্যবহার কী করা যেত না?
আমাদের মুখ্যমন্ত্রী (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) তখন দিল্লিতে ছিলেন, রাজ্যে যখন বন্যা হল, মানুষের স্বার্থে আমরা বলেছিলাম দিল্লি চলো। সেই বন্যায় যারা ক্ষতিগ্রস্থ হল, এখনো পর্যন্ত তারা উঠে দাঁড়াতে পারেনি। তখন উনি মানুষের জন্য কিছু করননি। আমরা বামপন্থীরা ১০০ দিনের কাজটা আদায় করেছিলাম। জঙ্গলের অধিকার নিয়ে বলছি, এই বিজেপি সরকার এখন বলছে জঙ্গল কেড়ে নিতে হবে।’

আপনার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী কে?
আমার প্রতিদ্বন্দী কোনো ব্যক্তি নয়। আমরা বিজেপি বা তৃণমূলের আদর্শ ও নীতির বিরোধী।

জেতার ব্যাপারে কতটা আশাবাদী?
জেতার জন্যই লড়াই করছি,আর জিতবও।

জিতলে পার্লামেন্টে গিয়ে কোন ইস্যুতে কথা বলবেন?
জল জঙ্গল। মানুষের কথা,তাদের যা চাহিদা সেটাই তুলে ধরবো।

কথা বলেছেন: মোকতার হোসেন মন্ডল

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *