ডিজাইনার ব্লাউজে হয়ে উঠুন লাস্যময়ী

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক | April 11, 2019 | 2:07 am

বিয়েবাড়ি থেকে শুরু করে পুজো-পার্বণ সবেতেই শাড়ির আলাদা মাহাত্ম্য থাকে। শাড়িতে একজন নারী যেমন সুন্দরী হয়ে উঠতে পারেন, তেমনই হতে পারেন লাস্যময়ীও। বিভিন্ন রকম শাড়ি নানান কায়দায় পরার পাশাপাশি সম্প্রতি শাড়ির সঙ্গে ডিজাইনার ব্লাউজেরও খুব চল হয়েছে। আগে যেমন জমকালো শাড়ির একখানা পরে তার সঙ্গে মানানসই ব্লাউজ পরলেই হয়ে যেত, আজকাল ঠিক তার উল্টোটা হচ্ছে। অর্থাত্, হালকা বা সিম্পল শাড়ির সঙ্গে জমকালো ব্লাউজই এখন ইন ফ্যাশন।

মূলত, শাড়ির সঙ্গে মেয়েদের শরীরের উপরের অংশকে ঢেকে রাখার জন্যই ব্লাউজের চল শুরু হয়। কিন্তু এখন ব্লাউজে এসেছে নানা বৈচিত্র। সুন্দর ব্লাউজ শুধু যে একটি শাড়িকে আরও সুন্দর করে তোলে তা নয়, নারী শরীরের সৌন্দর্যকে আলাদা ভাবে ফুটিয়ে তুলতেও ভালো ব্লাউজের কোনও জবাব নেই। সামান্য একটুকরো কাপড়ে তৈরি ব্লাউজে যে কী করা যায়, তা আধুনিক পোশাক নির্মাতারা দেখিয়ে দিচ্ছেন। অন্যদিকে, ব্লাউজ যদি ঠিকঠাক না হয় তবে হাজার ভালো শাড়িকেও লাগবে নিতান্তই ম্যাড়ম্যাড়ে।

ব্লাউজের কারিকুরি কিন্তু সামনের চেয়েও পেছনে অনেক বেশি। কারণ, সাধারণত ব্লাউজের সামনের অংশ বা বুকের দিকটি শাড়ির আঁচলে ঢাকা থাকে। কিন্তু পিঠটি থাকে খোলা। তাই এখানেই থাকে ব্লাউজ নির্মাতাদের আসল ওস্তাদি। আপনার শরীরের ছাঁদ, পিঠের গড়নের সঙ্গে মিলিয়ে সামান্য একফালি কাপড় নিয়ে খেলার সুযোগ অনেক বেশি। একচিলতে কাপড়কেই বিভিন্ন ভাবে সাজিয়ে একজন ওস্তাদ কারিগর নানা ভেল্কি দেখাতে পারেন।

ভিলেস, থ্রি-কোয়ার্টার, হল্টার নেক বা ব্যাকলেস যেমন ব্লাউজই আপনি পরুন না কেন, পিঠের কাজের গুণে আপনি হয়ে উঠতে পারেন একজন অসামান্য নারী। পিঠের দিকে ঠিকঠাক ছাঁটের পিঠকাটা বা পিঠখোলা ব্লাউজের দৌলতে আপনি হয়ে উঠতে পারেন যে কোনও অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ। সে আপনার পিঠ ভরাট, কিছুটা পেশিবহুল কিংবা একটু কম চওড়া যেমনই হোক না কেন। তবে ব্যাকলেস বা কাঁচুলি টাইপের গাঁট দেওয়া ব্লাউজ পরলে কয়েকটি কথা মাথায় রাখবেন। প্রথম কথাই হল, পিঠখোলা ব্লাউজ পরা মানেই সবার চোখে পড়বে আপনার পিঠ। তাই পিঠের যত্ন নিতে হবে ঠিক সেভাবেই যেভাবে গালের যত্ন নেওয়া হয়। পিঠ যেন হয় মসৃণ ও দাগছোপ মুক্ত। কেননা, পিঠে যদি দাগ থাকে বা রুক্ষ্ন হয় তাহলে ডিজাইনার ব্লাউজ পরার মজাটাই মাটি হয়ে যাবে।

আজকাল বেশিরভাগ জায়গায়ই দেখা যাচ্ছে, মহিলারা সিম্পল শাড়ির সঙ্গে ডিজাইনার ব্লাউজ পরছেন। শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজ পিস ছেড়ে এখন মহিলারা মেতেছেন নানা ফেব্রিক, কালার ও ডিজাইনের ব্লাউজে। ধরে নিন কালো সিম্পল শিফন শাড়ির সঙ্গে এখন পরতে দেখা যায় কালো ডিজাইনার ব্লাউজ। বলা বাহুল্য, এতে পুরো স্টাইল স্টেটমেন্টটাই এক পলকে পাল্টে যায়। তবে ব্লাউজ বানানোর ক্ষেত্রে অবশ্যই দক্ষ কারিগরের দ্বারস্থ হবেন। সঙ্গে খেয়াল রাখবেন আপনি কোথায়, কখন কী পরছেন।

অন্যদিকে, পিঠের যত্ন নেওয়া ও ঠিকঠাক প্রসাধনের পাশাপাশি পিঠের পেশিগুলির ব্যায়াম করাও খুব জরুরি। এতে পিঠের গড়ন হয়ে উঠবে সুন্দর ও আকর্ষণীয়। অতিরিক্ত চর্বি বা থলথলে পিঠের বদলে, ভরাট ও টানটান পিঠে ব্যাকলেস বা হল্টার নেক ব্লাউজ অনেক বেশি সুন্দর লাগে।

আবার আপনি যদি অতিরিক্ত রোগা হন, পিঠ হয় খুব সরু আর পিঠের উপরের হাড় ভীষণভাবে উঠে থাকে, তাহলে এমনভাবে ব্লাউজ বানাবেন যাতে ওই হাড় ঢাকা পড়ে। সেক্ষেত্রে পিঠে কম কাটা দিয়ে কোমরের দিকে শাড়িটি একটু নীচে পড়তে পারেন যাতে পিঠের নীচের দিকে অনেকটা জায়গা খোলা থাকে। তাতে আপনাকে আজকের ভাষায় দেখাবে।

Spread the love

1 comment on “ডিজাইনার ব্লাউজে হয়ে উঠুন লাস্যময়ী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *