তৃণমূলীরাই ভাঙল তৃণমূল কর্মীর হাত-পা

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক | April 13, 2019 | 9:55 pm

অমরনাথ দত্ত, বীরভূমঃ অনৈতিক কাজের প্রতিবাদ করার অপরাধে এক তৃণমূল কর্মীকে মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে শাবল দিয়ে মারধর করে ভেঙে ফেলা হলো। অভিযোগ তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান এবং তার ছেলের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের মাড়গ্রামে।

ঠিক যেন উল্টোপুরাণ, যেখানে তৃণমূল কর্মী এবং অন্যান্য নেতা নেত্রীদের বিরুদ্ধে বিরোধীরা অনৈতিক কাজের অভিযোগ তুলছেন, ঠিক তখনই দলেরই এক কর্মী অনৈতিক কাজের প্রতিবাদ করার অপরাধে মার খেতে হল অন্য কর্মীদের হাতে। শুধু মারই নয় মেরে ভেঙে ফেলা হয়েছে তার দুই হাত ও পা। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বীরভূমের মাড়গ্রামে।

এমন ঘটনায় আবার সেই তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের প্রশ্নই এসেছে সামনে। যদিও এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত জেলা নেতৃত্বের কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ভোটের আগে এমন ঘটনা অবশ্যই তৃণমূলের মাথা ব্যথার কারণ।

আহত তৃণমূল কর্মী শফিকুল শেখের অভিযোগ, “আমি দীর্ঘদিন ধরে আমাদের এলাকার পঞ্চায়েত প্রধানের অনৈতিক কাজের প্রতিবাদ করে থাকি। সে কারণেই আজ কাজে যাওয়ার সময় আমাকে ডেকে মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে প্রাণে মারার চেষ্টা করা হয়। গুলিও করে কিন্তু সেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তারপর শাবল দিয়ে মেরে আমার দু’হাত ও দু পা ভেঙে ফেলেছে।”

আহত ওই তৃণমূল কর্মী অভিযোগ আঙ্গুল তুলেছেন ভুট্টু শেখ এবং শফি মিঞার দিকে। ভুট্টু শেখ মাড়গ্রাম দু’নম্বর পঞ্চায়েতের তৃণমূল নেতা। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে ভিক্টর শেখের বিরুদ্ধে, যিনি শফি মিঞার ছেলে।

ঘটনার পর আহত ওই তৃণমূল কর্মী রামপুরহাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মাড়গ্রাম থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার করে নিয়ে আসে আহত ওই কর্মীকে।

যদিও আহত ওই তৃণমূল কর্মীর বাবা জানিয়েছেন, পুলিশের তরফ থেকে এখনও কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। তারা পুলিশের পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *