বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মীর তৎপরতায় মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচলেন এক কিশোরী

বর্ধমান: বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মীর তৎপরতায় মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচলেন এক কিশোরী। সোমবার ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া শহরে ভাগীরথীর ঘাটে।

বাংলা নববর্ষ শুরুর দিন মা লক্ষী সাহার সঙ্গে ভাগীরথীতে স্নান করতে নেমেছিলেন কিশোরী নন্দিনী। স্নান সেরে উঠে আসার সময়ে পা পিছলে ভাগীরথীর গভীর জলে গিয়ে পড়েন নন্দিনী। কিশোরীকে ভাগীরথীর গভীর জলে হাবুডুবু খেতে দেখে পাড়ে থাকা লোকজন ও লক্ষীদেবী চিৎকার জুড়েদেন। সেই সময়

আর এক মুহুর্ত দেরি করেননি কাটোয়া শ্মশানঘাট সংলগ্ন শিবমন্দিরের ঘাটে থাকা বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মী বাবু মালাকার, শ্যামসুন্দর ভাস্ককর ও সঞ্জয় ঘোষ। তারা ভাগীরথীতে ঝাপদিয়ে কিশোরীকে উদ্ধার করেন। ঘাটে তুলে আনার পর প্রথমিক শুশ্রুষা সুস্থ হয় কিশোরী। বর্ষ শুরুর দিনে মেয়ে পুনর্জীবন লাভকরায় বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মীদের কৃতজ্ঞতা জানানোর কোন খামতি রাখলেন না মা লক্ষী সাহা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে , কিশোরী নন্দিনীর পরিবারের বসবাস বর্ধমানের তেজগঞ্জে। কাটোয়ার মন্ডলহাট গ্রামে তাঁর মামার বাড়ি। মায়ের সঙ্গে সে মামার বেড়িতে এসেছিল।সোমবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ নন্দিনী ও তার মা লক্ষ্মী দেবী কাটোয়া শ্মশান ঘাট সংলগ্ন শিব মন্দিরের ঘাটে স্নান করতে নামেন। স্নান সেরে ঘাটে ওঠার সময়েই ঘটেযায় এই ভয়ানক দুর্ঘটনা।

বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মী বাবু মালাকার বলেন, মেয়েটি মায়ের সঙ্গে স্নান করছিল। হঠাৎ করেই গভীর জলে চলেগিয় সে হাবুডুবু খেতে থাকে। কোন অঘটন ঘটতে না দিয়ে তাঁরা তিন বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মী জলে ঝাঁপ দিয়ে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করেছেন।

নন্দিনীর বাবা অজিত সাহা বলেন, “আমার মেয়ে বর্ধমান শহরের একটি নামকরা স্কুলে দশম শ্রেণীতে পড়াশোনা করে। পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে সে তাঁর মায়ের সঙ্গে মামার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। ভাগীরথীতে স্নান করতে নেমে মেয়ে মৃত্যুর মুখে পড়ে যায়। বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মীদের সাহায্যে আমার মেয়েকে ফিরে পেয়েছি। ওদের কাছে আমার পরিবার চির কৃতজ্ঞ থাকবে।”

কাটোয়া থানার পুলিশ কর্তারা জানিয়েছেন , অল্পের জন্য মেয়েটি প্রাণে বেঁচে গেছে। এই ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে সে ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *